‘পেট্রল নিয়ে আয়, জ্বালিয়ে দেব !বিক্ষোভ না উসকানি? সেই নিয়ে মুখ খুললেন চাকরিহারা শিক্ষক
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘পেট্রল নিয়ে আয়, জ্বালিয়ে দেব !বিক্ষোভ না উসকানি? সেই নিয়ে মুখ খুললেন চাকরিহারা শিক্ষক

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ “পেট্রল নিয়ে আয়, জ্বালিয়ে দেব…” — এমন একটি উক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুক-টুইটার জুড়ে ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কসবার DI অফিসের সামনে এক চাকরিহারা যুবক বিক্ষোভরত অবস্থায় এই মন্তব্য করছেন। পুলিশের চোখে তিনি এখন অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম তাঁর — প্রতাপ গুহ রায়চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সদ্য চাকরি খুইয়ে যাওয়া একজন ইতিহাসের শিক্ষক।

আরও পড়ুনঃ ব্রাত্যর সঙ্গে চাকরিহারাদের বৈঠক শেষ! আশ্বাস মিললেও আন্দোলনে অনড়

কে এই প্রতাপ?
গোসাবা এনসি হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক প্রতাপ গুহ রায়চৌধুরী সোনারপুরের বাসিন্দা। সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, তিন বছরের সন্তান, মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী প্রতাপ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে হঠাৎ করেই চাকরি হারান। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ভাইরাল হল তাঁর একটি মন্তব্য।

বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগঃ
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতাপ বলেন, ‘পুলিশ যে ভাবে আমাদের মারছিল, আমরা সকলে বলতে চেয়েছিলাম, এ ভাবে না মেরে আমাদের গুলি করে দিন। কোর্টের অর্ডার নিয়ে এসে ফাঁসি দিয়ে দিন। অথবা পেট্রল নিয়ে আয় আমরা নিজেরাই নিজেদের জ্বালিয়ে দিই। সেটাই কেউ কেটে ছোট করে চালাচ্ছে, যেন আমরা হিংসা ছড়াতে চাইছি।”

Advertisement
ads

তাঁর দাবি, এটি ছিল হতাশার মুহূর্তে বলা প্রতীকী প্রতিবাদ। “সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করব, এমন কোনও ইচ্ছে আমাদের ছিল না। বরং আমরা DI অফিসে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে গিয়েছিলাম,” বলেন তিনি।

Advertisement
ads

রাজনীতির টানাপোড়েনঃ

এই ঘটনার পর থেকেই প্রতাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। BJP নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, ২০২১ সালে প্রতাপ ছিলেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য বলছেন, ২০২২ সালে তিনি বামেদের সমর্থনে সওয়াল করেছিলেন। প্রতাপ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। “আমি একজন চাকরিহারা শিক্ষক, যিনি মর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন,” বলেন তিনি।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও চাকরিহারাদের অবস্থানঃ 

কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, DI অফিসে বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে “হালকা বলপ্রয়োগ” করা হয়েছিল। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা DI অফিসে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। তবে প্রতাপ এবং তাঁর সহকর্মীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, তাঁরা DI অফিসের গেটের সামনে বসে প্রতিবাদ করছিলেন, ঢোকার সুযোগ না পাওয়ায় ব্যারিকেড সরানোর সময় নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়নি।

Advertisement
ads

চাকরি হারানো, সামাজিক অবমাননা, আর্থিক অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত প্রতাপের মতো বহু শিক্ষক। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁদের সমস্যাকে দেখুক প্রশাসন। প্রতাপের প্রশ্ন, “কীভাবে এত বড় শাস্তি দেওয়া হলো গণতান্ত্রিক দেশে? আমরা তো কোনও অপরাধ করিনি, শুধুমাত্র আদালতের সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছি।”

Continue Reading
Advertisement