ধর্ম
ইসরায়েলি কারাগারে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ‘নরক থেকে ফিরলাম’ বললেন ফিলিস্তিনি যুবক
ডিজিটাল ডেস্কঃ তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি বন্দী মুসাব কাতাবি। তবে মুক্তির মুহূর্তটিও রেহাই দিল না তাঁকে।ইসরায়েলের কারারক্ষীদের হাতে চরম অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাগার থেকে বের হলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার কাতাবিকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার আগে তাঁকে মারধর করে মাথা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটি আবর্জনার বাক্সে। শুধু তা-ই নয়, মাথার চুল কেটে তাঁর ওপরে আঁকা হয় ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক ‘স্টার অব ডেভিড’। এসব অভিযোগ স্বয়ং কাতাবি জানিয়েছেন মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালকিলিয়ায় ফিরে কাতাবি জানান, তাঁকে রাখা হয়েছিল নাফহা কারাগারে, যেখানে প্রতিদিনই চলত মারধর ও অবমাননা। তাঁর ভাষায়, “আমাদের পা দিয়ে মাড়িয়ে দেওয়া হতো, কুকুর দিয়ে ভয় দেখানো হতো, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হতো।” কাতাবির সঙ্গে একই দিনে মুক্তি পেয়েছেন আরেক বন্দী, আহমেদ মানাশ্রা, যিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ইসরায়েলির হামলার আর প্রয়োজন নেই! রক্ত, জলের অভাবেই মরতে বসেছে গাজা
এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের আগস্টে পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনির গালে জোর করে ‘স্টার অব ডেভিড’ সেঁটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বন্দীদের মারধর, অপুষ্টিতে রাখা, চিকিৎসাবঞ্চনা, এমনকি যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির গত জুলাইয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা বন্দীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছি।” এ প্রেক্ষাপটে কাতাবি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি বন্দীদের রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। তাঁর কথায়, “ওদের অবস্থা বিপজ্জনকের চেয়েও খারাপ।”
