ভাইরাল খবর
ভাঙা সম্পর্ক, গোপন বিয়ে ও প্রেমে ছেঁকা খেয়ে আত্মঘাতী ১৮ বছরের প্রীতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ এক সাধারণ রবিবারেই ঘনিয়ে এল চরম অন্ধকার। বাড়িতে একা ছিলেন দিল্লির কুশওয়াহা পরিবারের ছোট মেয়ে প্রীতি কুশওয়াহা। সন্ধেয় মায়ের সঙ্গে শেষ ফোনে বলেছিলেন — “রুটি বানানো আছে, তুমি এসে খেয়ে নিও।” কিন্তু ঘরে ফিরে মা দেখলেন, মেয়ের নিথর দেহ ঝুলছে সিলিং ফ্যানে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই চিরবিদায়। মর্মান্তিক এই ঘটনার পিছনে রয়েছে এক জটিল সম্পর্কের ইতিহাস — দাবি পরিবার ও কাছের বন্ধুদের।
দু’বছর আগে, এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রীতির দেখা হয় তাঁর দূরসম্পর্কের ভাই রিঙ্কুর সঙ্গে। ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে, সম্পর্ক গভীর হয় এবং একপর্যায়ে তাঁরা গোপনে বিয়েও করে ফেলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রীতির মৃত্যুর পর তাঁর এক বান্ধবী তাঁদের ব্যক্তিগত একাধিক চ্যাট স্ক্রিনশট এবং ছবি, যেখানে রিঙ্কুকে ‘হাজব্যান্ড জি’ বলে সম্বোধন করেছেন প্রীতি। এক ছবিতে তাঁকে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে — যা তাঁদের গোপন বিয়ের প্রমাণ বলে দাবি বান্ধবীদের। কিন্তু সেই সম্পর্কেই আসে টানাপোড়েন। সম্প্রতি প্রেমিক রিঙ্কু তাঁকে ব্লক করে দেন, সম্পর্ক থেকেও সরে আসেন। সেই ধাক্কা সামলাতে পারেননি প্রীতি — এমনটাই দাবি পরিবার ও প্রীতির বান্ধবীরা।
আরও পড়ুনঃ এসএসসি বাতিলের জেরে আর্থিক সংকট, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী শিক্ষিকা
এক আরেক বিতর্কিত ঘটনা ঘিরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। প্রীতি চুল ছোট করে ফেলতে চাইলে, পরিবারের সঙ্গে বচসা হয়। অবশেষে, চুল কেটে দেওয়া হয় বাড়িতেই। পরিবারের দাবি, প্রেমিক প্রীতিকে বলেছিল- ‘তুমি খুব সুন্দর, যদি অন্য কেউ তোমায় পছন্দ করে ফেলে আমি কী করব’ — এই ধরনের মন্তব্যে প্রভাবিত হয়েই প্রেম প্রমাণের জন্য নিজের কোমর পর্যন্ত চুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রীতি। অবসাদ, মানসিক যন্ত্রণা, সম্পর্কভঙ্গ — সব মিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন প্রীতি। শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে সমস্ত তথ্য জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রীতির প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার হয়নি। তাঁরা চাইছেন, অবিলম্বে দোষীর শাস্তি হোক।
