গণধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্তদের শোভাযাত্রা ভিডিও ভাইরাল
Connect with us

প্রতারণা

গণধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্তদের শোভাযাত্রা ভিডিও ভাইরাল

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: কর্ণাটকে এক চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাত অভিযুক্ত। কিন্তু আদালতের রায় ঘোষণার পর যা ঘটেছে, তা রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছে সমাজের নানা মহলকে। জামিনপ্রাপ্তদের জেল থেকে বীরোচিত মর্যাদায় বের করে এনে শহরে বাইক মিছিল এবং ডিজে বাজিয়ে আয়োজন করা হয় বিজয় শোভাযাত্রার—যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কর্ণাটকের (Karnataka) একটি হোটেল থেকে অপহরণ করে ২৬ বছর বয়সি এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় আফতাব চন্দনকাট্টি (Aftab Chandankatti), মাদার সাব মান্দাক্কি (Madar Sab Mandakki), সামিউল্লা লালনাভার (Samiulla Lalanavar), মহম্মদ সাদিক আগাসিমানি (Mohammad Sadiq Agasimani), শোয়েব মোল্লা (Shoeb Molla), তৌসিফ ছোটি (Tousif Choti) ও রিয়াজ সাভিকেরি (Riyaz Savikeri)-সহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালীন গত ১০ মাসে প্রমাণের অভাবে ধাপে ধাপে জামিন পেয়ে যান প্রথমে ১২ জন, এবং অবশেষে গত সপ্তাহে জামিনে মুক্তি পান বাকি সাত অভিযুক্তও। জানা গেছে, নির্যাতিতার পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের যথাযথভাবে শনাক্ত করতে না পারার কারণেই আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়

Advertisement
ads

কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। ভাইরাল হওয়া ভিডিও অনুযায়ী, আক্কি আলকুর (Akki Alur) শহর থেকে বাইক এবং ছোট গাড়ির শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে হাভেরি (Haveri) শহরে গিয়ে শেষ হয়। অভিযুক্তদের সম্মানে ডিজে বাজিয়ে, পতাকা উড়িয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজিত হয় এই শোভাযাত্রা।

Advertisement
ads

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর অভিযোগে অভিযুক্তদের সমাজে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়?

এদিকে, হাভেরি পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে সূত্রের খবর, পুলিশ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সামাজিকভাবে এমন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ধর্ষণ কিংবা নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলিকে ঘিরে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement