ভাইরাল খবর
বিপদ বেড়েই যাচ্ছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের! আমফান ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নয়া FIR
ডিজিটাল ডেস্কঃ একের পর এক আইনি জটিলতায় ক্রমশই কোণঠাসা হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ (MP) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য মামলার পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল আমফানের ত্রাণ দুর্নীতির (Amphan relief scam) গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনায় সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (Complaint) দায়ের করেছেন বিজেপি (BJP) নেতা অভিজিৎ দাস ববি।
বিজেপি নেতার দাবি, ২০২০ সালের ২০ মে বাংলা ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) আমফানের পর কেন্দ্র সরকারের তরফে যে বিপুল ত্রাণ পাঠানো হয়েছিল, তা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা সেই অর্থ আত্মসাৎ (Embezzlement) করেছেন। ববির দাবি, এই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
নথিতে গরমিল ও দুর্নীতির খতিয়ান:
অভিযোগপত্রে (FIR) বিজেপি নেতা নির্দিষ্ট কিছু ব্লকের আর্থিক অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরেছেন:
-
বিষ্ণুপুর ১ নম্বর ব্লক: ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতের জন্য ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ (Allocation) হয়েছিল। যেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ছিল ৩১ হাজার, সেখানে সরকারি কাগজে-কলমে ৩৪ হাজার ঘর দেখানো হয়েছে।
-
বিষ্ণুপুর ২ নম্বর ব্লক: এই ব্লকে প্রায় ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
-
অ্যাকাউন্টে জালিয়াতি: একই মোবাইল নম্বরে ৬-৭ জন, একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) ৭-৮ জন এবং একই পরিবারে ১১-১২ জন করে ত্রাণের টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
“আপাতত বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রতিটি থানায় এই আমফান ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে পৃথক পৃথক এফআইআর দায়ের করা হবে।” বিজেপি নেতার দাবি, এই বিশাল অঙ্কের কেলেঙ্কারির পেছনে তৎকালীন বিডিও (BDO), গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান এবং জেলা পরিষদের সভাপতি-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের (Administrative Officials) প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। তাই বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের (Disaster Management Fund) টাকা তছরুপের এই মামলায় সকলকেই তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনীতি মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও আইনি বিপদ এখন চরমে।
১. সই জাল মামলা: বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় ইতিমধ্যেই সিআইডি (CID) ভবানীভবনে অভিষেককে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। আগামী রবিবার তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে।
২. ডিজে মন্তব্য মামলা: এই মামলায় গত শুক্রবারই তাঁর বাড়িতে হাজিরার সমন পৌঁছে দিয়েছে সিআইডি। আগামী ১৬ জুন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
৩. ইডি-র তলব: আগামী ১৫ জুন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED) দপ্তরেও তাঁর হাজিরার কথা রয়েছে।
এরই মাঝে নতুন করে আমফান মামলার এই এফআইআর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা সম্পূর্ণভাবে তদন্তের (Investigation) পরই স্পষ্ট হবে।
