রাজ্যের খবর
দেরিতে ট্রেন, নিত্যদিনের যন্ত্রণায় ফুঁসে উঠলেন যাত্রীরা, বড়গাছিয়ায় রেল অবরোধ
ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ শনিবার (১১ অক্টোবর), দক্ষিণ-পূর্ব রেলের (South Eastern Railway) হাওড়া-আমতা রুটে (Howrah-Amta Route) বড়গাছিয়া (Bargachhia) স্টেশনে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন নিত্যযাত্রীরা (Daily Commuters)। অভিযোগ, প্রতিদিনই ট্রেন সময়মতো না চলায় স্কুল, কলেজ, অফিসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।
আজকের ঘটনাটি শুরু হয় সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আমতা (Amta) থেকে হাওড়াগামী ট্রেন ছাড়ার পরে। ট্রেনটি বড়গাছিয়ায় পৌঁছেও প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এর পরেই ক্ষুব্ধ যাত্রীরা লাইনে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কেউ লাইনে বসে পড়েন, কেউ আবার স্লোগান তোলেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি – প্রতিদিন এই দেরির ফলে চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নিত্যযাত্রীরা জানান, ট্রেনের এই লেট (Late) সমস্যা একদিনের নয়, বরং প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানা (Factory) শ্রমিক, বেসরকারি কর্মচারী (Private Employees), ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা পেশার যাত্রীরা নিত্যদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ (Police)। তারা প্রথমে যাত্রীদের বুঝিয়ে অবরোধ (Blockade) তুলে নেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু যাত্রীরা জানিয়ে দেন, রেলের উচ্চপদস্থ কর্তারা না এলে তাঁরা সরবেন না। পরে পুলিশ চ্যাংদোলা করে (Forcibly Carried Away) অবরোধকারীদের লাইনের বাইরে সরিয়ে দেয়।
রেল কর্তৃপক্ষ যদিও গোটা ঘটনা অস্বীকার করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ বলেন, “আমতা শাখায় রেল অবরোধের কোনো খবর আমার জানা নেই।”
ঘটনার সময় লাইনে উপস্থিত এক যাত্রী বলেন, “ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের ট্রেন রোজ দেরি করে। প্রতিদিন এক-দেড় ঘণ্টা লেট হয়। আমরা চাই ট্রেন সময়মতো চলুক।”
অন্য এক যাত্রী জানান, “সন্ধ্যার ট্রেনও লেট করে। সন্ধ্যা ৬টার ট্রেন রাত ৯টায় আসে। বাড়ি ফিরতে পারি না। এইভাবে ট্রেন চললে চলবে না।”
এই ঘটনায় পরিষ্কার, যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে।


