ডিজিটাল ডেস্কঃ ধর্ষণের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের (Kartik Maharaj)। এই গুরুতর অভিযোগের মাঝে কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হল, আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।
বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণে অংশগ্রহণ করতে না পারার কথা জানান এবং সেই সময় পর্যন্ত রাজ্য কোনও পদক্ষেপ নেবে না বলেও আশ্বাস দেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত (Justice Joy Sengupta) সেই আশ্বাস গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয় বৃহস্পতিবার।
এইদিনই এক আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অন্য এক গুরুতর অভিযোগে— যে ধর্ষণের মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন, তাঁকে নাকি পুলিশ হেনস্থা করছে। ওই আইনজীবী বিচারপতির কাছে মামলার আবেদন করতে চাইলে বিচারপতি জানান, এ ধরনের আবেদন শোনার এক্তিয়ার তাঁর নেই। আইনজীবীকে পরামর্শ দেওয়া হয় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Justice Tirthankar Ghosh) কোর্টে তা উত্থাপন করার।
আরও পড়ুনঃ কসবা ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তের গায়ে আঁচড়ের দাগ, ‘লাভ বাইট’ তুলে পালটা সাফাই আইনজীবীর!
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানায় স্বামী প্রদীপ্তানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মহিলা। অভিযোগ, ২০১৩ সালে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নবগ্রামের এক বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন কার্তিক মহারাজ। অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই সময় তাঁর গর্ভসঞ্চার হয় এবং মহারাজের চাপেই তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়।
এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে নবগ্রাম থানার পুলিশ মহারাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনি নোটিস পাঠায়। তাঁকে বলা হয় ১ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে থানায় হাজিরা দিতে। তবে তিনি সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং FIR খারিজের আবেদন জানান।
এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত এখন রাজ্য রাজনীতিতে নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।