স্বাস্থ্য
সামাজিক মাধ্যমেও তোলপাড়, পুরুষদের প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হওয়ার ঘটনা
ডিজিটাল ডেস্কর শুনতে অদ্ভুত হলেও সত্যি, এমন একটি বিষয় ঘটতে পারে যা একবার ভাবলেই চমকে উঠবেন—পুরুষের (male) শরীরে প্রেগন্যান্সি টেস্ট (pregnancy test) পজিটিভ (positive) ফল আসা। হ্যাঁ, আপনি ঠিক পড়েছেন। সামাজিক (social) মাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই এই অদ্ভুত ইস্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে। কেউ কি একবারও এই পরীক্ষা করেছেন? নাকি শুধুই গল্প?
কিন্তু যেসব পুরুষের (men) প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ এসেছে, তাদের জন্য এটি কোনো সাধারণ খবর নয়। প্রথমে মনে হতে পারে, ‘এটি কি সম্ভব?’ বিজ্ঞান বলছে, অতি বিরল হলেও সম্ভব। তবে এটি গর্ভধারণ (pregnancy) থেকে নয়, বরং শরীরে হরমোন (hormone) বা টিউমারের কারণে।
বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) অ্যাসটার হুইটফিল্ড (Aster Whitfield) হাসপাতালের অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজি (obstetrics & gynecology) কনসালট্যান্ট ডঃ দীপ্তি (Dr. Deepti) জানান, প্রেগন্যান্সি টেস্ট মূলত মূত্রে (urine) এইচসিজি (hCG) হরমোন আছে কি না তা দেখার জন্য। মহিলাদের (women) ক্ষেত্রে ডিম্বানু (egg) নিষিক্ত হওয়ার পরে এই হরমোন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পুরুষদের (men) ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই নেগেটিভ (negative) ফল পাওয়া উচিত।
তবুও, বিরল কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের (men) প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে। এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো টেস্টিকুলার (testicular) টিউমার, যেখানে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি থেকে এইচসিজি তৈরি হতে পারে। এছাড়া লিভার (liver), পেট (abdomen) বা ফুসফুস (lungs) সম্পর্কিত বিরল টিউমার থেকেও এই হরমোন উৎপন্ন হতে পারে।
এ ধরনের ফলাফল পেলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ (specialist) চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা (check-up) না করলে সমস্যার প্রকৃত কারণ বোঝা কঠিন হতে পারে।
পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য (reproductive health) ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস (habits) গুরুত্বপূর্ণ:
১. নিয়মিত ডাক্তার দেখান (regular check-up): স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সময়মতো চেকআপ জরুরি।
২. ধূমপান ও তামাক (tobacco) বন্ধ করুন: এগুলো ইরেকটাইল ডিসফাংশন (erectile dysfunction) এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
৩. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা (personal hygiene) বজায় রাখুন: জননাঙ্গ (genitals) ও আশেপাশের অঞ্চল পরিষ্কার রাখুন।
৪. স্থূলতা (obesity) ও জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করুন: সঠিক খাবার, ব্যায়াম (exercise) এবং কম স্ট্রেস (stress) প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
৫. সংক্রমণ (infection) থেকে বাঁচুন: ক্ল্যামিডিয়া (chlamydia) ও গনোরিয়া (gonorrhea) এর মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রতিটি পুরুষের উচিত এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো মেনে চলা। কখনো হঠাৎ প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ (pregnancy test positive) ফল পাওয়া জীবনের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে, তাই তা নিঃসন্দেহে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া জরুরি।


