ভাইরাল খবর
গরু পাচারের অপবাদে প্রবীণ চাষিদের মারধর, দুই বিজেপি কর্মী গ্রেপ্তার —মূল অভিযুক্ত পলাতক
ডিজিটাল ডেস্কঃ গরু পাচারের অভিযোগ তুলে প্রবীণ চাষিদের মারধর ও টাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ইতিমধ্যেই দুই বিজেপি কর্মী—অনীশ ভট্টাচার্য (Anish Bhattacharya) ও দীপক দাস (Deepak Das)—কে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিরা পলাতক। পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি, মূল অভিযুক্ত বিজেপির রাজ্য যুব কমিটির সদস্য পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়কেও (Parijat Gangopadhyay) গ্রেপ্তার করা হবে।
জানা গেছে, বাঁকুড়ার হাট আশুড়িয়া থেকে গরু কিনে ফিরছিলেন জেমুয়া গ্রামের পাঁচ প্রবীণ চাষি। কোকওভেন থানার গ্যামন ব্রিজ এলাকায় বিজেপি কর্মীরা তাঁদের পথ আটকায়। অভিযোগ, গরুপাচারের অপবাদ দিয়ে হাত বেঁধে মারধর, কান ধরে হাঁটানো, এমনকি তাঁদের কাছে থাকা টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী (Sunil Choudhury) জানান, “আক্রান্তরা কৃষিকাজের জন্য গরু কিনেছিলেন। তাঁদের অবৈধ পাচারকারী বলে নিরীহভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা বরদাস্ত করা হবে না।”
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বন্ডেল গেট কাঁপল, তৎপর দমকল
ঘটনার দিনই তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (Narendranath Chakraborty) এবং সিপিএম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার রাতে মূল অভিযুক্তের দুর্গাপুরের বাড়ি ঘেরাও করে জেমুয়ার একাংশ বাসিন্দা। একই রাতে দুর্গাপুর ও কোকওভেন থানায় বিক্ষোভ হয়।
শনিবার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী (Nawsad Siddique)। তাঁর মন্তব্য, “ওদের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। প্রতিবেশী হয়ে সৌভাতৃত্ব বজায় রাখুন।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই (Laxman Chandra Ghorui) বলেন, “প্রবীণ চাষিদের মারধর সমর্থনযোগ্য নয়, তবে অযথা রাজনীতিকরণ হলে বিজেপিও পাল্টা আন্দোলনে নামবে।”
এই ঘটনায় বিজেপির ভাবমূর্তি চাপে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। ধৃতদের শনিবার দুর্গাপুর আদালতে তোলা হয়।
