লালকেল্লা বিস্ফোরণ: ৩০০ মিটার দূরে কাটা হাত! তীব্রতার নতুন প্রমাণ।
Connect with us

হামলা

লালকেল্লা বিস্ফোরণ: ৩০০ মিটার দূরে কাটা হাত! তীব্রতার নতুন প্রমাণ।

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা (Red Fort) চত্বরে যে বিস্ফোরণটি ঘটেছিল, তার ভয়াবহতা কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মোট ১৩ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও ২০ জন। ঘটনার দুই দিন পর কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে জঙ্গি হামলা (Terror Attack) বলে তকমা (Tag) দিয়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য, যা দিল্লির বাসিন্দাদের শিউরে তুলছে।

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটের সেই বিস্ফোরণের তীব্রতা (Intensity) এতটাই বেশি ছিল যে, বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার (১,০০০ ফুট) দূরে অবস্থিত লাজপত রায় মার্কেটের একটি দোকানের ছাদ (Roof) থেকে এক ব্যক্তির কাটা হাত (Severed Hand) উদ্ধার হয়েছে। ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও (Video)-তে সেই কাটা হাতটি, যা বাহু পর্যন্ত ছিল, দোকানের ছাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণত, এত দূরত্বে দেহাংশ ছিটকে যাওয়া হাই-গ্রেড বিস্ফোরক ব্যবহারেরই ইঙ্গিত দেয়।

ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিস্ফোরণে হাই-গ্রেডের বিস্ফোরক (High-Grade Explosive) ব্যবহার করা হয়েছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে ৪০টিরও বেশি নমুনা (Sample) সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কার্তুজ (Cartridge), তাজা গোলাবারুদ (Ammunition) এবং বিস্ফোরক রয়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে একটি নমুনায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (Ammonium Nitrate)-এর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে একটি নমুনা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চেয়েও বেশি শক্তিশালী (More Powerful) বলে মনে করা হচ্ছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার পরই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত (Confirmed) করা হবে।

বিস্ফোরণের অভিঘাত এতই ছিল যে, আশেপাশের দোকান ও গাড়ির কাঁচ (Glass) পর্যন্ত ভেঙে যায়।

Advertisement
ads

মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিহতদের ময়না-তদন্ত (Post-Mortem) রিপোর্টে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন— তাঁদের শরীরে ‘ক্রস-ইঞ্জুরি’র ধরণ লক্ষ্য করা গেছে। এটি তখনই ঘটে যখন বিস্ফোরণের প্রবল ধাক্কায় মানুষ দেওয়াল বা মাটিতে সজোরে ধাক্কা খায়। এর ফলে অনেকের দেহের হাড় (Bone) ভেঙে গিয়েছে এবং মাথাতেও গুরুতর আঘাত (Injury) লেগেছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হতাহতদের কয়েকজনের ফুসফুস (Lungs), কান (Ear), অন্ত্র (Intestines) এবং পেটে (Abdomen) গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গিয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে বিস্ফোরণটি খুব কাছ থেকেই (Very Close Proximity) ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, আঘাতগুলি মূলত শরীরের উপরের অংশ— মাথা এবং বুকে কেন্দ্রীভূত ছিল।

বিস্ফোরণস্থলে মৃতদের ছিন্নভিন্ন দেহ (Mutilated Bodies) এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ১০ জনের মধ্যে কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, এবং বাকিরা গুরুতর আঘাত (Injury) ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের (Hemorrhage) কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (Under Treatment) অবস্থায় মারা গিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছ’জনের পরিচয় (Identity) শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের দেহ পরিবারের (Family) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
ads