ভাইরাল খবর
উত্তর দিনাজপুরে বদলি আরজি কর-কাণ্ডের অভিযোগকারী, আখতারের বদলি ঘিরে প্রশ্ন
ডিজিটাল ডেস্কঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন আখতার আলি, যিনি তৎকালীন ডেপুটি সুপার ছিলেন। আখতারের অভিযোগে উঠে আসে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার, এবং অবৈধ বদলি চক্রের মতো অভিযোগ। এই অভিযোগের পরেই রাজ্য সরকার তদন্ত শুরু করে এবং পরে সিবিআইকে এ সংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আখতার আলি ২০২৩ সালে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনে লিখিত অভিযোগে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ১৫টি অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ছিল সরকারি অর্থের অপব্যবহার, অনৈতিকভাবে সরকারি সম্পত্তি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া, শিক্ষা খাতের তহবিলের অপব্যবহার, এবং কোভিড তহবিলের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ। বিশেষত, চিকিৎসা বর্জ্য বিক্রি এবং অনলাইন দরপত্র এড়িয়ে ঘুষের মাধ্যমে বরাত প্রদান করার অভিযোগও উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভ, গুলি, মৃত্যু— ওয়াকফ আইনে জ্বলছে মুর্শিদাবাদ, রাজ্যপাল সক্রিয়
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে, যার ফলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপর আখতার আলির অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্ত আরও গভীর হয়। আখতার দাবি করেছিলেন, দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন হুমকি এবং চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বদলি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সন্দীপ ঘোষের প্রভাবের কারণে তাঁর বদলি দ্রুত ঘটানো হয় এবং ৫২ দিন ধরে তাঁর সার্ভিস ব্রেক করার চেষ্টা করা হয়।
অবশেষে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আখতারের অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল, এবং পরে তা সিবিআইয়ের কাছে চলে যায়। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে, আখতার আলি সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে বদলি হয়েছেন। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) পদ থেকে তাঁকে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ডেপুটি সুপার পদে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি রুটিন বদলি।
