ভাইরাল খবর
পাকিস্তানি মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান! তদন্তের নির্দেশ জেলা শাসকের
নিউজ ডেস্ক , ০১ জানুয়ারী : নজিরবিহীন ঘটনা উত্তরপ্রদেশে৷ পঞ্চায়েত প্রধান পদে বসেছেন এক পাকিস্তানি মহিলা। কি করে সম্ভব হল এমন বেনজির কাণ্ড, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ৷ এটার জালেসরের অন্তর্বর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পদে বসা ওই পাকিস্তানি নাগরিকের নাম বানো বেগম৷ ওই পাকিস্তানি মহিলা ৪০ বছর আগে দীর্ঘ মেয়াদি ভিসার ভিত্তিতে করাচি থেকে ভারতে আসে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা আকতার আলীকে বিয়ে করেন বানো বেগম।
সেখানে দীর্ঘদিন ধরে থাকার সুবাদে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আরো অন্যান্য নথি তৈরি করতে তার কোনো সমস্যা হয়নি। এলাকায় পরিচিতি বাড়তে থাকায় যোগাযোগ তৈরি হয় বহু মানুষের মধ্যে। বৈবাহিক সূত্রে থাকার জন্য যেখানে তাকে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ইস্যু করেছে ভারত সরকার, সেখানে কি করে পঞ্চায়েতের মতন প্রতিষ্ঠানের মাথায় বসেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক এনিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এটার জেলা শাসক সুখলাল ভারতী। জেলা পঞ্চায়েতি রাজ অফিসার অলোক প্রিয়দর্শী বলেন, ২০১৫-র স্থানীয় পুরভোটে বানো বেগম গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হন। এছরের ৯ জানুয়ারি গ্রাম প্রধান শেহনাজ বেগম মারা গেলে বানো বেগমকে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসাবে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। তবে পাকিস্তানি নাগরিক হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এনিয়ে ওই পাকিস্তানি মহিলাকে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে অপসারিত করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি নাগরিক বানো বেগম এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এটা জেলার গোদাও গ্রামের ওই পাকিস্তানি মহিলা বানো বেগম দাবি করেছেন, তিনি কোনো দিন নির্বাচনেই লড়েন নি। তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট নেই। প্রতি বছর ভিসা রিনিউ করতে হয়। অথচ গ্রামের প্রাক্তন প্রধান তাকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বানিয়েছে। এতে তার কোনো দোষ নেই।

অলোক প্রিয়দর্শী , জেলা পঞ্চায়েতী রাজ আধিকারিক
‘ অন্যদিকে জেলা পঞ্চায়েতী রাজ আধিকারিক অলোক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ওই পাকিস্তানি মহিলাকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল একজন ভারতীয় নাগরিককে ওই পথে বসানোর। কিন্তু তা না করে এই বেআইনি কাজের জন্য ওই পঞ্চায়েত সদস্যরাই মূলত দায়ী। তা সত্ত্বেও গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই মহিলার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
