ভাইরাল খবর
আইসিকে গালিগালাজ মামলায় হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত, পাঠালেন ৫ আইনজীবী
ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে মোবাইলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর শনিবার সকাল ১১টায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)-কে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বোলপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) ঋকি আগরওয়ালের অফিসে অনুব্রতের দেখা মেলেনি। নির্ধারিত সময় পার হবার পরও তিনি হাজিরা দেননি।
তার পরিবর্তে, সকাল ১১টার কিছু আগে তাঁর পক্ষে পাঁচজন আইনজীবী এসডিপিও অফিসে পৌঁছন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে যান। তাঁরা সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি। এক আইনজীবীর বক্তব্য, “অন্য একটি বিষয়ে এসেছিলাম”, অপরজনের দাবি ছিল, “এটি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ”। স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়িয়েছে— তবে কি ইচ্ছাকৃতভাবেই পুলিশের ডাক উপেক্ষা করলেন কেষ্ট মণ্ডল (Kesto Mondal)?
পুলিশ সূত্রে খবর, অনুব্রতের বিরুদ্ধে যে চারটি ধারায় মামলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি জামিন অযোগ্য। ফলে আগাম জামিন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই পাঁচজন আইনজীবীকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী সোমবার অনুব্রত সিউড়ি মহকুমা আদালত অথবা কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, অনুব্রতের গ্রেফতার চায় বিরোধীরা
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অডিও ক্লিপ, যা বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। শুধু পুলিশ আধিকারিক নন, তাঁর পরিবার— বিশেষ করে স্ত্রী ও মায়ের সম্পর্কেও অশ্লীল মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার পরই নবান্নের নির্দেশে জেলা পুলিশ শুক্রবার অনুব্রতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
দলীয়ভাবে চাপ বাড়ে এরপরই। তৃণমূল (TMC) জানিয়ে দেয়, অনুব্রতকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিস্থিতি আঁচ করে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন করে এবং চিঠি পাঠিয়ে ক্ষমা চান কেষ্ট। সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমি নানা ওষুধ খাই, মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – Mamata Banerjee) অঙ্গ, তাঁদের অপমান করার কথা ভাবতেও পারি না।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি কীভাবে ফোনালাপের সেই ফুটেজ পেল? কে দিয়েছে? কোনও চক্রান্ত চলছে না তো?”
শুধু মুখে নয়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি (Subrata Bakshi)-র কাছেও আলাদা করে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। যদিও এই ঘটনা ঘিরে প্রশাসন এবং তৃণমূলের অন্দরে এখনো উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডল যদি শনিবার হাজিরা না দেন, তাহলে তাঁকে আরও দু’বার নোটিশ পাঠানো হবে। এরপরও হাজিরা না এলে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে পার্টি অফিসে গিয়ে তৃণমূল নেতাকে প্রথম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালেই বোলপুর এসডিপিও অফিসে বিশেষ নিরাপত্তা এবং ব্যারিকেডিং করা হয় অনুব্রতের আগমন ধরে। তবে বেলা বাড়তেই সেই ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়, যা থেকেই স্পষ্ট হয়— হাজিরা এড়িয়ে গেছেন তৃণমূলের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা।
[shortened_url]
