ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi Infiltrator) নিউটন দাসের (Newton Das) নাম। ভারতের ভোটার হিসেবে দীর্ঘদিন নাম ছিল তাঁর। অবশেষে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এদেশে এসে কাকদ্বীপের তৃণমূল নেতার (TMC Leader) ভূমিকা নেন নিউটন। এরপরই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বাংলাদেশের ‘কোটা আন্দোলন’-এর (Quota Movement, Bangladesh) মিছিলে তাঁর অংশগ্রহণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর নাগরিকত্ব বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে।
নিউটন দাবি করেছেন, তিনি ২০১৪ সাল থেকেই ভারতের বৈধ ভোটার। এমনকী ২০১৭ সালে ভোটার কার্ড হারানোর পর স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা (Monturam Pakhira)-র সহায়তায় নতুন করে ভোটার কার্ড পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। যদিও মন্টুরামবাবু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি নিউটনকে কোনওভাবেই চেনেন না।
আরও পড়ুনঃ ফের বিপাকে এয়ার ইন্ডিয়া! বোমার খবরে মাঝ আকাশ থেকে ঘুরে এল বিমান
এদিকে নিউটনের দাদা জানিয়েছেন, নিউটনের জন্ম বাংলাদেশেই এবং সেখানেই তিনি পড়াশোনা করেছেন। তাঁর দাবি, করোনার সময় নিউটন ভারতে আসেন। তবে কীভাবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হল, তা তিনি জানেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। নিউটনের সঙ্গে সুন্দরবন জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি দেবাশিস দাসের (Debashis Das) একাধিক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে। দেবাশিস নিজে স্বীকার করেছেন, তাঁরা একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্কও ছিল। তবে তাঁর দাবি, নিউটনের নাগরিকত্ব সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
অভিযোগ, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ যাওয়ার সময় পেট্রাপোল সীমান্তে (Petrapole Border) নিউটনের কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করেন অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকরা। ওই ঘটনায় নিউটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় তিন মাস জেলেও ছিলেন তিনি। পরে বন্ধু দেবাশিস দাসের প্রচেষ্টায় জামিনে মুক্তি পান নিউটন।
নিউটন দাসের বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলছে। কীভাবে তিনি এত বছর ধরে ভারতীয় পরিচয়ে ভোটার তালিকায় থেকে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন তাঁর নাম বাতিল করলেও গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।