প্রতারণা
টুলু কাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড়, উদ্ধার গোপন ডায়েরি! নাম জড়াল বর্তমান ও প্রাক্তন বহু সরকারি আধিকারিকের
ডিজিটাল ডেস্কঃ বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের কথিত বেআইনি (Illegal) সাম্রাজ্যের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরি (Diary) উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ওই ডায়েরিতে পাথর ব্যবসার আর্থিক হিসেব (Accounts) এবং বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকদের কাছে অর্থ পৌঁছানোর কথিত তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। যদিও এই তথ্যের সত্যতা এখনও যাচাই করছে পুলিশ।
সোমবার আদালতে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, সীতেশকে জেরা (Interrogation) করেই তদন্তকারীরা ডায়েরি এবং একটি গোপন অফিস-কাম-গোডাউনের সন্ধান পান। মহম্মদবাজারের ওই জায়গা থেকে একটি অফসেট (Offset) প্রিন্টিং মেশিনও উদ্ধার হয়েছে, যা দিয়ে নকল DCR (Duplicate Challan Receipt) ছাপানো হত বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারী সূত্রের মতে, হাতে লেখা ওই ডায়েরির প্রতিটি পাতায় কথিত আর্থিক লেনদেনের (Financial Transaction) বিস্তারিত হিসেব রয়েছে। সেখানে জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
এর আগে মহম্মদবাজার এলাকায় একটি পাথরবোঝাই ডাম্পার আটক করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। চালকের দেখানো DCR পরীক্ষা করে সেটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানা যায়। এরপরই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে জাল DCR চক্রের (Fake DCR Network) অস্তিত্ব এবং সেই সূত্র ধরেই সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়।
বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানান, এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট (Syndicate) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি (Property) ফ্রিজ (Freeze) বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থ, সোনা, ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানত (Fixed Deposit) এবং বিপুল স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
পুলিশের দাবি, তদন্ত যত এগোবে, তত নতুন তথ্য ও নতুন নাম সামনে আসতে পারে। তবে ডায়েরিতে থাকা তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
