রাম নয়, দুর্গা-কালীর নামে ভাষণ শুরু মোদীর—বঙ্গ ভোটে 'সাংস্কৃতিক বদল' বিজেপির অস্ত্র
Connect with us

ভাইরাল খবর

রাম নয়, দুর্গা-কালীর নামে ভাষণ শুরু মোদীর—বঙ্গ ভোটে ‘সাংস্কৃতিক বদল’ বিজেপির অস্ত্র

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুরের (Durgapur) সভামঞ্চে এক অন্য রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গেরুয়া শিবিরের একদা পরিচিত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে পাশে সরিয়ে রেখে বাংলার মাটি থেকে মোদীর মুখে শোনা গেল— “জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী।” ভাষণ শুরু করলেন পুরোপুরি বাংলায়, শ্রদ্ধা জানালেন “বড়দের প্রণাম, ছোটদের ভালবাসা”-র মাধ্যমে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটা নিছক ভাষণ নয়, বিজেপির (BJP) ভাবমূর্তির পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট বার্তা— বঙ্গীয়করণের কৌশল।

গত কয়েক বছরে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সে স্লোগানের দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এবারে সেই আবহেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লক্ষ্য করা গিয়েছে ভাবমূর্তি বদলের প্রয়াস। আজকের দুর্গাপুর সভা যেন সেই প্রয়াসেরই শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। মোদীর হাতে তুলে দেওয়া হল দুর্গা, কালী ও গণেশমূর্তি। আমন্ত্রণপত্রে ছিল না ‘জয় শ্রীরাম’; বদলে লেখা ছিল— ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর নীচে ‘জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী’।

প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ মিনিটের ভাষণে এদিন একাধিক বার উঠে আসে ‘Modi Guarantee’। তিনি তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC)। মোদীর অভিযোগ, “তৃণমূল সরকারের শাসনে বাংলায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর সিন্ডিকেটরাজই নিয়ন্ত্রণ করছে সবকিছু। শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই। বাংলা যে একদা বাণিজ্য ও সংস্কৃতির পথ দেখাত, তা এখন গুণ্ডা ট্যাক্সের বলি।”

আরও পড়ুনঃ শেষ লড়াইয়ের ডাক মিঠুনের! গোষ্ঠীকোন্দলে জর্জরিত বঙ্গ বিজেপির হতাশা উগরে দিলেন ‘মহাগুরু’

Advertisement
ads

তিনি জানান, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট-সহ একাধিক শিল্পে আধুনিকীকরণ ঘটিয়ে চাকরি তৈরি করা হবে। রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সরানোর ডাক দিয়ে বলেন, “তৃণমূল হঠাও, বাংলা বাঁচাও।” মোদীর দাবি, “BJP ক্ষমতায় এলে বাংলা হয়ে উঠবে দেশের শিল্প-উদ্যোগের অন্যতম কেন্দ্র।”

শুধু শিল্প নয়, রাজ্যের শিক্ষা ও নারী-নিরাপত্তার বিষয়েও মুখ খোলেন মোদী। কসবা কাণ্ড থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাগুলি তুলে ধরেন। বলেন, “এই বাংলায় এখন মেয়েরাও হাসপাতাল বা কলেজে নিরাপদ নয়। অপরাধীদের বাঁচাতে তৃণমূল নেতারা সক্রিয়। প্রশাসন নীরব দর্শক।” পাশাপাশি তিনি অনুপ্রবেশ নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, “তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে। কিন্তু সংবিধানের ভিত্তিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভার মাধ্যমে রাজ্য বিজেপি একটা বড় সাংস্কৃতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে যেখানে শুভেন্দু-দিলীপদের আগ্রাসী রণকৌশল কাজ করেনি, সেখানে শমীকের নেতৃত্বে দল এখন চেষ্টা করছে বাঙালিয়ানায় নিজেকে রাঙাতে। নির্বাচনের আগে রাজনীতির এই সুর বদল কতটা কাজে দেয়, তার উত্তর আগামী দিনে মিলবে। তবে এখনই স্পষ্ট— ২০২৬-এর লক্ষ্যে বিজেপি বাংলা দখলের ছক নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement