দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, রাজ্যজুড়ে বাড়ছে দুর্যোগের সম্ভাবনা
Connect with us

আবহাওয়া

দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, রাজ্যজুড়ে বাড়ছে দুর্যোগের সম্ভাবনা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের কারণে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Met Office) জানিয়েছে, বুধবার (২৮ মে) থেকে এই বৃষ্টি আরও জোরালো হবে। তার সঙ্গে বাড়বে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলার দিকে এগিয়ে আসছে অনুকূল পরিস্থিতিতে। অসম ও মেঘালয়ের একাংশ ইতিমধ্যেই বর্ষার আওতায় এসেছে। উত্তরবঙ্গেও বর্ষা প্রবেশ করতে পারে আগামী তিনদিনের মধ্যে। মৌসুমী অক্ষরেখা এখন বিস্তৃত মুম্বই, পুনে, সোলাপুর, কালবুরগি, মেহবুবনগর, কাবালি হয়ে সরাসরি পৌঁছে গিয়েছে আগরতলা ও গোয়ালপাড়া পর্যন্ত।

এর ফলে রাজ্যের উপকূল ও পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বুধবার থেকে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর দিনাজপুর ও মালদহ জেলাতেও প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই প্রবল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে। বাড়তে পারে নদীর জলস্তর। নিচু এলাকা ও শহরাঞ্চলে জল জমার আশঙ্কাও থাকছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলা প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Advertisement
ads

এই মুহূর্তে উত্তাল হয়ে উঠছে উত্তর বঙ্গোপসাগর (North Bay of Bengal)। বুধবার থেকে সেখানে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সব ধরনের জলকেন্দ্রিক ও পর্যটনমূলক কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতাতেও বৃষ্টির দাপট থাকবে। মঙ্গলবার (২৭ মে) শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার সর্বোচ্চ ছিল ৩১.৩ ডিগ্রি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৭ থেকে ৯৭ শতাংশ। হালকা বৃষ্টি হলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে বুধবার থেকে শহরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার এই রূপ আগামী কয়েকদিন রাজ্যবাসীকে ভোগাবে বলেই মত আবহাওয়াবিদদের। সতর্ক থাকার পাশাপাশি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনমতো পদক্ষেপ করার পরামর্শও দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

Advertisement
ads