ভাইরাল খবর
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই প্রশাসনিক অ্যাকশন! রাজগঞ্জে নতুন বিডিও
ডিজিটাল ডেস্ক: সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা (Swapan Kamilya) অপহরণ ও খুনের মামলায় ‘মূল অভিযুক্ত’ (Prime Accused) হিসেবে নাম জড়ানো জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের (Rajganj) বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে (Prashanta Barman) অবশেষে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আত্মসমর্পণের নির্দেশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশান্ত বর্মণের বদলে রাজগঞ্জের নতুন বিডিও (BDO) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌরভকান্তি মণ্ডলকে (Souravkanti Mondal)। এতদিন তিনি ওই ব্লকের যুগ্ম বিডিও (Joint BDO) পদে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত বিডিওকে সংবর্ধনা জানান স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা (Administrative Deadlock) তৈরি হয়েছিল। একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প (Development Projects) থমকে ছিল। নতুন বিডিও দায়িত্ব নেওয়ায় সেগুলি ফের গতি পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে তৎকালীন রাজগঞ্জ বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম। পুলিশের দাবি, এই খুনের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন প্রশান্তই।
নাম জড়ানোর পর থেকেই কার্যত গা ঢাকা দেন তিনি। গ্রেফতারি এড়াতে প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিন (Anticipatory Bail) পান প্রশান্ত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) যায় বিধাননগর পুলিশ। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগাম জামিন খারিজ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি হয়।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পাননি প্রশান্ত। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনে হেফাজতের আবেদন করতে পারবে।
আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় রাজগঞ্জে নাগরিক পরিষেবা (Civic Services) ব্যাহত হচ্ছিল। সেই কারণেই প্রশাসনিক স্বার্থে তাঁকে সরিয়ে যুগ্ম বিডিওকেই আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
