ভাইরাল খবর
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ‘পলাতক! অবশেষে পুলিশের জালে ‘দাবাং’ অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ট্রাফিক আইন ভাঙাই কাল হলো! দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মন। সল্টলেকের দত্তাবাদের এক স্বর্ণব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের (Murder Case) ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক (Absconding) থাকার পর, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ‘মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট’-এর ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার (Arrested) করে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত বর্মন। তাঁর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি স্কুটারেও ধাক্কা মারে, যাতে এক আরোহী আহত (Injured) হন। দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে গালিগালাজ করার পাশাপাশি আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসানি ও চড় মারার হুমকি (Threat) দিতে থাকেন তিনি। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল (Viral) হয়েছে। এরপর ইকো পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিচয় যাচাই করার পর জানা যায়, তিনি অন্য এক হাইপ্রোফাইল মামলার মূল অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁকে অপহরণ (Kidnap) করে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম জড়ানোয় তাঁকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। কলকাতা হাইকোর্ট ও দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের (Surrender) নির্দেশ দিলেও তিনি গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন এবং পুলিশ চার্জশিটে তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখিয়েছিল। পথসুরক্ষা বিধি ভাঙার অপরাধে ধরা পড়লেও, বিধাননগর পুলিশ এখন এই খুনের মামলায় তাঁকে নিজেদের হেফাজতে (Custody) নেওয়ার আবেদন জানাবে। সাদা খাতা জমা দিয়েও বিডিও হওয়া-সহ একাধিক বিতর্কে জড়ানো প্রশান্তর এই নাটকীয় গ্রেপ্তারে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


