দেশের খবর
আকাশ মিসাইল কেনায় আগ্রহী ব্রাজিল, রাজনাথের সঙ্গে বৈঠকে সামরিক সমঝোতার বার্তা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের তৈরি আকাশ (Akash) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখাল ব্রাজিল (Brazil)। সম্প্রতি রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)-এর সঙ্গে ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে এই প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে একটি প্রতিবেদনে।
জানা গেছে, অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindhur) চলাকালীন পাকিস্তানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল, তা দেখে বিশ্বের বহু দেশ এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ব্রিকস (BRICS)-এর সদস্য ব্রাজিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ইতিমধ্যেই ব্রাজিলে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি একটি বড় মাপের প্রতিরক্ষা রফতানি (Defence Export) চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
নিউজ১৮-এর (News18) রিপোর্ট বলছে, ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে এই আলোচনার ফলে সামরিক সহযোগিতা (Strategic Cooperation) আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু কৌশলগত সম্পর্ক নয়, ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও (Atmanirbhar Defence) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইসঙ্গে, গ্লোবাল সাউথ (Global South)-এর দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি, ভারত একটি বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী (Reliable Defence Exporter) দেশ হিসেবে তার অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।
আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম (Akash Missile System) কী?
এই ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটি ডিজাইন করেছে ভারতের ডিআরডিও (DRDO)। এর কাজ হলো যুদ্ধবিমান (Fighter Jet), ড্রোন (Drone), ক্রুজ মিসাইল (Cruise Missile) এবং হেলিকপ্টার (Helicopter)-এর মতো শত্রু অস্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া। এটি একটি সম্পূর্ণ মোবাইল সিস্টেম (Mobile Air Defence System), অর্থাৎ এটি সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায়। এই সিস্টেম একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের ড্রোন হামলাকে ব্যর্থ করতে এই আকাশ মিসাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই যুদ্ধ-পরীক্ষিত (Combat Proven) প্রযুক্তি এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও কদর পাচ্ছে।
ব্রাজিলের আগ্রহ ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতি বিশ্বব্যাপী আস্থা ও স্বীকৃতির আরেকটি নিদর্শন।


