দেশের খবর
চিনের চাপে বেকায়দায় আমেরিকা, ভারতের সাহায্য প্রার্থনা করলেন স্কট বেসেন্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ যে দেশকে একসময় ‘তেল-নীতি’ নিয়ে বারবার আক্রমণ করেছিলেন, আজ তাকেই পাশে চাইছেন মার্কিন অর্থসচিব (US Treasury Secretary) স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)।
রাশিয়া (Russia) থেকে অপরিশোধিত তেল (crude oil) কেনা নিয়ে ভারতকে (India) একাধিকবার তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন বেসেন্ট। কিন্তু পরিস্থিতি ঘুরেছে। এবার চিনের (China) রেয়ার আর্থ (rare earth elements) রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় চাপে পড়েছে আমেরিকা (USA)। ফলে এখন ভারতের থেকেই ‘সাহায্য’ চাইছেন মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি বলেন:
“চিনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জেরে আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। ওয়াশিংটন এই প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই আবহে আমরা আশা করছি ভারত (India), ইউরোপ (Europe) এবং এশিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলির (Asian democracies) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাব।”
তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই বন্ধুরাষ্ট্রগুলির (allied nations) সঙ্গে বৈঠকে বসবে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক সম্প্রতি রেয়ার আর্থ ধাতু (rare earth metals) রপ্তানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিশেষ করে, বিদেশি সামরিক সংস্থার (foreign military contractors) সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই খনিজ রপ্তানি বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যেমন F-35 ফাইটার জেট (fighter jets), উন্নত সাবমেরিন (submarines) এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র (Tomahawk missiles)** তৈরিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা দিশেহারা। কারণ বিশ্বজুড়ে এই খাতের প্রায় ৯০% রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে চিন। এতদিন রপ্তানির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক প্রকল্পের কাঁচামাল জোগাচ্ছিল তারা। কিন্তু এবার সেই সরবরাহ বন্ধ হতে চলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ১০ অক্টোবর ঘোষণা করেন, চিন থেকে আসা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক (100% tariff) আরোপ করা হবে। যা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে থাকা ৪০% শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই হার ১৪০%-এ পৌঁছাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চিনের এই কৌশল আন্তর্জাতিক বাজারে একপ্রকার ‘আগ্রাসন’ (aggression)। ট্রাম্পের কথায়,
“চিন বিশ্বকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বন্দি (hostage) করে রাখতে চাইছে। এটি একটি নৈতিক অপরাধ (moral crime)।”
জানা গেছে, চিন একাধিক দেশকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, তারা যেন আমেরিকাকে রেয়ার আর্থ সরবরাহ না করে। এই নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকাই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


