মমতা বলেন, “ওরা বিভাজন চায়, কিন্তু আমরা ঐক্য চাই। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না।” অভিষেকও তাঁর বক্তব্যে বাংলার মাটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, “বাংলা সব ধর্মের মানুষের জায়গা। এই মাটি যেমন হিন্দুদের, তেমনই মুসলমানদের, তেমনই অন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের জায়গা। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সর্বশক্তিমান আল্লাহ সবার রোজা কবুল করুন, সবার জীবন সমৃদ্ধ হোক।”
আরও পড়ুনঃঈদের আগে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বিকিকিনি
বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “যে বাংলা থেকে ওরা ১৮টি আসন পেয়েছিল, তার মধ্যে ৬টি ইতিমধ্যেই বাংলার মানুষ তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে। বাংলার মানুষ যদি একজোট না হতো, তাহলে দেশে ওদের একনায়কতন্ত্র চলতেই থাকত।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বাংলাকে বিভক্ত করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত— যে চাঁদ দেখে আমরা ইদ উদযাপন করি, সেই একই চাঁদ দেখে করওয়াচৌথের উপবাস ভাঙা হয়। চাঁদের কোনও ধর্ম নেই, সূর্যেরও নেই। যে বাতাসে আমরা শ্বাস নিই, তারও কোনও ধর্ম নেই।”
রাহত ইন্দোরির কবিতা উদ্ধৃত করে অভিষেক বলেন,
“সবার রক্ত মিশে আছে এই মাটিতে,
কোনো একক ব্যক্তির সম্পত্তি নয় এই হিন্দুস্তান।”
রাহত ইন্দোরির লেখা উদ্ধৃত করে বললেন, ‘সভি কা খুন হ্যায় শামিল ইঁহা মিট্টি মে, কিসী কে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়'( सभी का खून है शामिल यहाँ की मिट्टी में,किसी के बाप का हिंदुस्तान थोड़ी है)।
তিনি বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, “কেউ বলছেন, হিন্দুরা বিপদে আছে, কেউ বলছেন, মুসলমানরা বিপদে আছে। কিন্তু আমি বলব— বিজেপির বন্ধুরা ধর্মের চশমা খুলে দেখুন, আসলে গোটা হিন্দুস্তানই বিপদে!”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট বার্তা দেন, “প্রতিটি ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায় এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য আমি কাজ করে যাব। আপনারা ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব।” এদিন শুধু রেড রোডেই নয়, বেলগাছিয়াতেও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ইদ উদযাপন করা হয়। চেতলায় নমাজ পাঠ করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।