অচ্যুত পোতদার দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ কঠোর অধ্যাপকের ভূমিকায়। সেই চরিত্রের সংলাপ “আখির কেহনা ক্যা চাহতে হো” আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল জনপ্রিয় এবং মিম জগতে ভাইরাল হয়ে থাকে। তবে তাঁর অভিনয় জীবন শুধুমাত্র এই চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হিন্দি ও মারাঠি মিলিয়ে তিনি প্রায় ১২৫টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে— ‘আক্রোশ’, ‘অর্ধ সত্য’, ‘তেজাব’, ‘পরিণীতা’, ‘পারিন্দা’, ‘বাস্তব’, ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘দাবাং ২’, ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’, ‘রঙ্গিলা’ এবং ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’।
শুধু সিনেমা নয়, টেলিভিশনেও সমান দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। ‘ভারত এক খোঁজ’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’, ‘প্রধানমন্ত্রী’, ‘আহত’, ‘মাঝা হশিল না’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল ঘরে ঘরে।
অভিনেতা হওয়ার আগে পোতদারের জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রথমে তিনি একজন অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন, তারপর যোগ দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। ১৯৬৭ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। এরপর প্রায় ২৫ বছর ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil)-এ এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব সামলান। অবসর নেওয়ার পরই অভিনয়ে মন দেন তিনি। বয়স তখন ৪৪। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা।
চলচ্চিত্রের বাইরেও অচ্যুত পোতদার ছিলেন সবার প্রিয়, সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের জন্য সমানভাবে সম্মানিত। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগত হারাল এক বহুমুখী প্রতিভাকে। চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সহকর্মী, ভক্ত ও অনুরাগীরা।