ভাইরাল খবর
SIR ঘিরে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র অনিয়মের অভিযোগ! রাজ্যজুড়ে পুলিশের বড় অভিযান
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth And Death Certificate) ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ (Police)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা (Kolkata) সহ একাধিক জেলা এলাকায় পুরসভা ও পঞ্চায়েত দফতরে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান (Raid)।
অভিযোগ উঠেছে, আগের সময়ে নিয়ম না মেনে বা ভুয়ো নথির (Fake Documents) ভিত্তিতে কিছু জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় (SIR) এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার নথি সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। কলকাতা পুরসভার একাধিক বরো অফিসে অভিযান চালানোর পাশাপাশি পুরসভার সদর দফতরেও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ল্যাপটপে সংরক্ষিত তথ্য, আবেদনপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। শহরের কয়েকটি জায়গা থেকেও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শুধু কলকাতা নয় রাজ্যের অনেক জায়গাতেই অভিযান চালানো হয়েছে। কোচবিহারের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভাতেও তদন্তকারীরা পৌঁছে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করছেন। কয়েকটি জায়গা থেকে রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, কোনও ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম (Government Rules) অমান্য করে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা ভুয়ো তথ্য ব্যবহার করে নথি তৈরি হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনা হচ্ছে। এবার থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, পুরনো নথিও পুনরায় যাচাই (Verification) করা হবে। ১৯৯৭ সাল থেকে তৈরি হওয়া শংসাপত্রগুলির তথ্য পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তে কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান কোনও সাধারণ নাগরিককে হয়রানি করার জন্য নয়, বরং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এই তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
