ভাইরাল খবর
কালীঘাট সূত্রই একদিন দলটাকে শেষ করে দেবে ! একুশের সমাবেশের পর বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ (Martyrs’ Day) কর্মসূচির মঞ্চকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) অভিযোগ করেছেন, দলের তথাকথিত ‘কালীঘাট সূত্র’ (Kalighat Source) ভুল তথ্য ছড়িয়ে নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতাই দলকে বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
একটি দীর্ঘ ফেসবুক (Facebook) পোস্ট এবং পরে এক্স (X)-এ করা বার্তায় কল্যাণ জানান, ২১ জুলাইয়ের সভায় তাঁর বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ার অভিযোগের বাস্তবতা ভিন্ন। তাঁর দাবি, বক্তব্য চলাকালীন প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মঞ্চে পৌঁছন। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রায় পাঁচ মিনিট বক্তৃতা থামিয়ে রাখতে হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এলে আবারও বক্তব্য বন্ধ করেন এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই পুনরায় ভাষণ শুরু করেন।
কল্যাণের অভিযোগ, পরে তাঁকে দীর্ঘ বক্তৃতার জন্য প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করা হয়, যা তাঁকে অপমানিত (Humiliated) করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এক ঘণ্টা বক্তৃতা করিনি। কে এই ভুল তথ্য দিচ্ছে?” এই প্রশ্নও তিনি নেত্রীর সামনে তুলেছিলেন বলে দাবি করেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, গত দুই মাসে অনেক বক্তা জেলা সফরে (District Visit) যাননি। অথচ তিনি নিজে একাধিক জেলায় গিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘কালীঘাট সূত্র’-এর নামে সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, তা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে।
কল্যাণ বক্তাদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী সৌগত রায় ছাড়া অন্য কোনও সাংসদের নাম প্রথম তালিকায় ছিল না। তালিকাভুক্ত কয়েকজন উপস্থিত না থাকায় তাঁকেই বক্তব্য শুরু করতে হয়।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য শেষ করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়। এরপর কিছুক্ষণ বসে থেকে তিনি মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, অসুস্থতার (Illness) কারণেই আগেভাগে চলে গিয়েছিলেন।
কল্যাণের এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। মানিকতলার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডেও তাঁর পোস্ট শেয়ার করে দলীয় নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন। ফলে তৃণমূলের অন্দরে মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্যে এসেছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
তবে কল্যাণ স্পষ্ট করেছেন, তাঁর ক্ষোভ কোনও ব্যক্তিকে নয়, বরং সেই ‘কালীঘাট সূত্র’-কে ঘিরে, যারা তাঁর দাবি অনুযায়ী ভুল তথ্য ছড়িয়ে দলের ক্ষতি করছে। তাঁর বক্তব্য, “এই কালীঘাট সূত্রই একদিন দলকে শেষ করে দেবে।” এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি এবং নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
