অর্থদপ্তরের মন্ত্রী অথচ জানতেনই না বাজেটে কী আছে? তৃণমূল ছাড়তেই বোমা ফাটালেন চন্দ্রিমা
Connect with us

ভাইরাল খবর

অর্থদপ্তরের মন্ত্রী অথচ জানতেনই না বাজেটে কী আছে? তৃণমূল ছাড়তেই বোমা ফাটালেন চন্দ্রিমা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে ইস্তফা (Resignation) দেওয়ার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এক বড়সড় বোমা ফাটালেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় মোট পাঁচবার এবং অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ঠিক আগে অর্থদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু দল ছাড়ার পরই সেই বাজেট পেশ নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি (Explosive Claim) করে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, বাজেট সম্পর্কে নাকি তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

শনিবার দলের সব পদ থেকে ইস্তফাপত্র (Resignation Letter) জমা দিয়েই সোজা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের এই অন্যতম প্রধান ভরসার মুখ। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা অভিযোগ করেন, “আমাকে যেখানে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, আমি করেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা ডিসকাশন (Discussion) করে বাজেট তৈরি হতো না। সাধারণ মানুষ যখন বাজেট শুনত, আমি তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানতে পারতাম।” বাজেট আসলে কে তৈরি করতেন— এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জানি না, বলতে পারব না। সব কথা তো আগে বলতে পারতাম না, কারণ মন্ত্রী হিসেবে গোপনীয়তার শপথ (Oath of Secrecy) নিয়েছিলাম। সেই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হতো বলেই এতদিন কিছু বলিনি।” কেবল নেত্রীর প্রতি আনুগত্য (Loyalty) দেখিয়েই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সবকিছু করে গেছেন বলে জানান।

অর্থদপ্তরের মন্ত্রী নিজেই জানতেন না বাজেটের পাতায় কী আছে— চন্দ্রিমার এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে স্বভাবতই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। এই প্রসঙ্গে বিজেপির (BJP) বিধায়ক তথা বর্তমান রাজ্য সরকারের মন্ত্রী তাপস রায় পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যের ওপর ৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণ (Debt) রয়েছে, সেই দায় চন্দ্রিমাও এড়াতে পারেন না। তাছাড়া অর্থদপ্তরকে তো পূর্ণ ক্যাবিনেট মর্যাদাই (Cabinet Status) দেওয়া হয়নি, ওঁর কেবল রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদা (Minister of State Status) ছিল। তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে।” ২০২৬-এর ভরাডুবির পর চন্দ্রিমার এই বিদ্রোহ ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি (Confession) রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।