‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে হুমায়ুনকে জোড়া নোটিস পুলিশের
Connect with us

রাজনীতি

‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে হুমায়ুনকে জোড়া নোটিস পুলিশের

‘স্যাটাভাঙা মার’ ও থানা ঘেরাওয়ের হুমকির জেরে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তলব করল পুলিশ। ৩ ও ৫ জুলাই হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁর বাড়িতে। পাল্টা মুখ খুললেন বিধায়কও।

Dipa Chakraborty

Published

on

মুর্শিদাবাদ: রেজিনগরের কাশীপুরে উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য পেশের পর এবার সরাসরি আইনের কাঠগড়ায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক (MLA) হুমায়ুন কবীর। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ (police)। ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্য এবং থানা ঘেরাওয়ের হুমকির জেরে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলায় (separate cases) তাঁকে থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছে।

৩ ও ৫ জুলাই হাজিরার নির্দেশ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আগামী ৩ এবং ৫ জুলাই থানায় সশরীরে হাজিরা (personal appearance) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এই নোটিস প্রসঙ্গে বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে বাড়িতে নেই, তাই নোটিসের (notice) ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানেন না। নোটিস হাতে পাওয়ার পর হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবেন। তবে একই সাথে তাঁর হুঙ্কার, “কারও দাসত্ব (slavery) করব না।”

কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার একটি সভা থেকে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে হুমায়ুন বলেছিলেন:

“বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু-একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।” কেস দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।”

এখানেই শেষ নয়, শক্তিপুরের অপর একটি সভা থেকে পুলিশ প্রশাসনকেও সরাসরি হুমকি (threat) দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের আগের দিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছেন ওসি (OC)। তাঁকে আগে দেখব, তারপর ওর বাবাকে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে একে বের করব। পারলে রুখে দেখান।”

Advertisement
ads ads

বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর: সোমবার বিধানসভায় হুমায়ুনের এই মন্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ (communal comment) বলে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান:

“এই দুটো ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। দুটো কেস আমরা রুজু করেছি। বিএনএস (BNS – Bharatiya Nyaya Sanhita) এর সব ধারা দিয়েছি। পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। দেশে আইন শেষ কথা বলে, কোনও বাপের বেটা বলে না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরই সোমবার রাতে সভার তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর মঙ্গলবার সকালে স্বয়ং বিধায়কের বাড়িতেই নোটিস ঝোলালো প্রশাসন, যা ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন চরম উত্তপ্ত।

Continue Reading
Advertisement ads