ভাইরাল খবর
মহরমের মিছিলে বিষ ক্যাপসুল বিলি, মুম্বইয়ে ১৫ হাজার মানুষকে খুনের ছক বানচাল
মুম্বইয়ের বাইকুল্লায় মহরমের শোভাযাত্রায় ব্যথার ওষুধের নামে ইঁদুর মারার বিষ বিলি! তিন মহিলার তৎপরতায় রক্ষা পেল হাজার হাজার প্রাণ। ধৃতের আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মুম্বইয়ের মহরমের শোভাযাত্রাকে (Procession) কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ ও গণ-নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। শুক্রবার বাইকুল্লা এলাকার আশুরার মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গোপনে বিষমিশ্রিত ক্যাপসুল বিলি করার সময় ফৈয়াজ প্রেমজি নামে এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বহু মানুষ ওই ক্যাপসুল খাওয়ার আগেই পুলিশ তাকে ধরে ফেলায় এড়ানো গেছে এক চরম বিপর্যয় (Disaster)।
ক্যাপসুল খেয়ে অসুস্থ অন্তত ১১ জন: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে যখন মহরমের মিছিল চলছিল, তখন অভিযুক্ত ফৈয়াজ ওই ক্যাপসুলগুলিকে ‘ব্যথার ওষুধ’ এবং ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়ানোর ওষুধ’ বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করছিল। সেই ক্যাপসুল খাওয়ার পর পরই অন্তত ১১ জন গুরুতর অসুস্থ (Sick) হয়ে পড়েন। পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা বিপন্মুক্ত।
তিন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর তৎপরতায় বাঁচল হাজারো প্রাণ: এই ঘটনায় বড়সড় খুনের ছক ব্যর্থ হয়েছে মূলত তিন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর (Volunteers) উপস্থিত বুদ্ধির জেরে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম লক্ষ্য করেন যে, ওই যুবক অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিলি করছে। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকান এবং পুলিশকে খবর দেন। একই সাথে মাইকে (Loudspeaker) ঘোষণা করে মিছিলে উপস্থিত সকলকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। প্রথমে অভিযুক্ত এটিকে ইমিউনিটি বুস্টার দাবি করলেও, স্বেচ্ছাসেবীরা একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে সন্দেহজনক গুঁড়ো দেখতে পান।
উদ্ধার প্রায় ১৫ হাজার ক্যাপসুল, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সন্দেহ: ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (DCP) জয়ন্ত মীনা জানিয়েছেন, ধৃতের কাছ থেকে মোট ১৪ হাজার ৯০০টি বিষমিশ্রিত ক্যাপসুল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার দেওয়ার তথ্য মিলেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে (Interrogation) ধৃত যুবক স্বীকার করেছে, মিছিলে অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে একসঙ্গে খুন করার উদ্দেশ্য (Motive) ছিল তার। ধৃত যুবক আদতে একজন বিবিএ (BBA) স্নাতক। অতীতে সে ইরান ও ইরাক সফর করেছে। ফলে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগ (Terror Link) বা বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আদালত ধৃতকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে (Police Custody) পাঠিয়েছে।
জিঙ্ক ফসফাইড কতটা প্রাণঘাতী? ফরেন্সিক পরীক্ষার (Forensic Test) জন্য পাঠানো ওই ক্যাপসুলে মিলেছে জিঙ্ক ফসফাইড (Zinc Phosphide)— যা সাধারণত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক (Chemical)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাসায়নিক পেটে গেলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস (Phosphine Gas) তৈরি করে। এই গ্যাস হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক (Antidote) নেই। দ্রুত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্টই (Ventilator Support) আক্রান্তকে বাঁচাতে পারে।
