ভাইরাল খবর
“জেলে রেখে দেশের পয়সায় জামাই আদর নয়”! “জলদি জলদি ভাগো”, অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের (Political regime change) পর এবার অনুপ্রবেশ রুখতে এক নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নতুন সরকার। রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাড়িয়ে দিতে শুরু হয়ে গেল ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (Detect, Delete and Deport) প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার কল্যাণীতে তিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “জলদি জলদি ভাগো।”
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবেই ‘জামাইআদর’ করা হবে না। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়া লম্বা লাইনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি টিভিতে দেখেছি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব আমরা?”
নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমদ্ধেই জেলায় জেলায় নোটিস (Notice) পাঠিয়ে ‘ডিটেনশন সেন্টার’-এর আদলে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding center) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালগোলা এবং মালদহে ইতিমধ্যেই এই সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে বহু অবৈধ বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আইনটি বহু আগে থেকে থাকলেও পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্কের (Vote bank) স্বার্থে তা কার্যকর করেনি।
শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে আদালতে বা জেলে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, সরকারি কোষাগারের অর্থ খরচ করে জেলে তাদের খাওয়ানো বা ওষুধ দেওয়ার পক্ষপাতী নয় এই সরকার। পরিবর্তে, পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দেবে এবং বিএসএফ তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাবে (Deportation)। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতাভুক্ত নন এমন সমস্ত অবৈধ বাসিন্দাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।


