ভাইরাল খবর
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা কৃষ্ণ কল্যাণীর
ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কোনও রাজনৈতিক দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাবে না। এখন থেকে সমাজসেবা এবং নিজের ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান তিনি।
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরীর কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর আত্মসমালোচনার সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। কৃষ্ণ কল্যাণীর বক্তব্য, ” “মানুষ আমাকে পাঁচ বছর সুযোগ দিয়েছিলেন, আমি আমার সামর্থ্য মতো কাজ করেছি। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা এবার আমাকে চাননি, তাঁরা বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছেন। এই হারের জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, আমিই দোষী।” তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভই ভোটের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
একসময় বিজেপির টিকিটে জিতে পরে, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যয়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাঁর পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজের ‘সমাধান’ অফিস বন্ধ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে সমাজসেবামূলক কাজ বন্ধ হবে না বলেই স্পষ্ট করেছেন। গরিব মানুষের জন্য চালু করা ‘রুটি-সবজি’ পরিষেবা আগের মতোই চলবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কৃষ্ণ কল্যাণী।
এদিকে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ একে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়া বলছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন।

