ভাইরাল খবর
ঘরের ভেতর থেকে স্বেচ্ছামৃ/ত্যুর জেদ! দরজা ভেঙে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক মহিলাকে উদ্ধার
ডিজিটাল ডেস্কঃ জলপাইগুড়ি শহরের শান্তিপাড়া (Shantipara) এলাকায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েকমাস নিজেকে ঘরবন্দি (House Arrested) করে রাখা এক মহিলাকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল পুলিশ। ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র (Euthanasia) দাবি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে কার্যত অন্ধকার ঘরে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিলেন ৪৮ বছর বয়সী শান্তা হোম।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (Graduate) শান্তা দেবী একসময় প্রাইভেট টিউশন পড়িয়ে জীবন চালাতেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, মা-বাবার মৃত্যুর পর থেকে তিনি ক্রমশ সমাজবিচ্ছিন্ন (Socially Isolated) হয়ে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করলে ভিতর থেকে উত্তর আসে— “আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চাই, কেউ বিরক্ত করলে আত্মহত্যা (Suicide) করব।” আতঙ্কিত বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ খবর দেন স্থানীয় কাউন্সিলার পৌষালি দাস ও পুলিশকে।
উদ্ধারের সময় দেখা যায়, দিনের পর দিন না খেয়ে শান্তা দেবীর শরীর কঙ্কালসার (Emaciated) হয়ে পড়েছে। তাঁর নড়াচড়া করার ক্ষমতাটুকুও প্রায় ছিল না। পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানালা ভেঙে অনেকক্ষণ কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটুট ছিলেন। অবশেষে পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Medical College and Hospital) ভর্তি করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাবা প্রমোদচন্দ্র হোম এবং মা লক্ষ্মী হোমের মৃত্যুর পর শান্তা দেবী সম্পূর্ণ একা হয়ে যান। আত্মীয়স্বজনরা বিশেষ খোঁজ নিতেন না। কখনও মঠের ভোগ খেয়ে আবার কখনও নিজে রান্না করে চলত তাঁর নিঃসঙ্গ জীবন (Lonely Life)। একাকীত্বের এই চরম অবসাদই (Depression) তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকরা। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।


