দেশের খবর
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কোপ ভারতের হেঁশেলে! কালোবাজারি রুখতে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান-আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের (Conflict) আঁচ এবার সরাসরি এসে পৌঁছেছে ভারতের হেঁশেলে। গত ১৩ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের জেরে ভারতে তীব্র জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতে তেল ও গ্যাস আমদানির পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়ে। যদিও সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য পথ খুলে দিয়েছে ইরান, তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মক।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার এনএক্সটি সম্মেলনে (NXT Conference) যোগ দিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমান গ্যাস সংকটকে তিনি ভারতের কোভিড লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৪০ কোটি দেশবাসীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ঠিক যেভাবে আমরা কোভিড অতিমারিকে (Pandemic) জয় করেছিলাম, সেভাবেই এই গ্যাস সংকটকেও আমরা কাটিয়ে উঠব।” নাগরিকদের সমস্যা লাঘব করতে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা (Continuous Efforts) চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে যারা গ্যাসের কালোবাজারি (Black Marketing) করছে, তাদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অসাধু ব্যবসায়ীদের (Unscrupulous Traders) লাগাম টানতে তিনি রাজ্য সরকারগুলোকে কড়া নজরদারি (Strict Surveillance) চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমজনতা যাতে অতিরিক্ত গ্যাস মজুত (Stockpiling) না করেন, সেই লক্ষ্যে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (High-level Committee) গঠন করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এই কমিটিতে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। উল্লেখ্য, গ্যাস সংকটের কারণে হোটেল-রেস্তরাঁগুলি যেমন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ইনডাকশন (Induction) বা বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) পুনরায় স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার।


