খুন
দুষ্কৃতীর হামলায় নিহত তৃণমূল বুথ সভাপতি, উত্তেজনা ছড়াল নানুরে
ডিজিটাল ডেস্কঃ নানুরে ফের রক্তাক্ত রাত। শুক্রবার গভীর রাতে নানুরের থুপসড়া অঞ্চলের পাতিছড়া গ্রামে নৃশংস হামলায় খুন হলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাসবিহারী সর্দার ওরফে দোদন (Rasbihari Sardar alias Dodon) বয়স ৫০। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র (Sharp Weapons) এবং লোহার রড (Iron Rod) দিয়ে দুষ্কৃতীরা তাঁকে নির্মমভাবে কোপায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও পাঁচজন; সবাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে গ্রামবাসীরা নাটমন্দিরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা (Altercation) শুরু হয়। অভিযোগ, ওই সময়ই একদল দুষ্কৃতী শাবল (Shovel) ও রড নিয়ে আক্রমণ চালায়। রাসবিহারীবাবুকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যে পালানোর বা প্রতিরোধ করার কোনও সুযোগই মেলেনি। হামলার পরেই দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
খবর পেয়ে নানুর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রামজুড়ে চলছে তল্লাশি অভিযান। মৃতের ছেলে মানব সর্দার (Manab Sardar) অভিযোগ করেছেন, “পার্টি অফিস (Party Office) থেকে ফেরার পথে বাবা নাটমন্দিরের সামনে পৌঁছতেই ওরা শাবল–রড দিয়ে আক্রমণ করে। বাবার খুনের বিচার চাই।”
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিবাদ (Long-standing Feud) থেকেই এই হামলা। তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, নাকি আচমকা তৈরি হওয়া বচসার ফল—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক রং নিয়েও নানা জল্পনা এলাকাজুড়ে।
শনিবার মঙ্গলকোট হাসপাতালে রাসবিহারীবাবুর দেহের ময়নাতদন্ত (Post-Mortem) হবে। দেহ ফিরিয়ে আনা হবে গ্রামে। নানুর জুড়ে চাপা উত্তেজনা।


