‘তিনফুটিয়া’ বলে হেনস্থার পরও জয় গণেশের, আইনি লড়াই জিতে ডাক্তারি পেশায় প্রবেশ
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘তিনফুটিয়া’ বলে হেনস্থার পরও জয় গণেশের, আইনি লড়াই জিতে ডাক্তারি পেশায় প্রবেশ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মাত্র তিন ফুট উচ্চতা এবং ডোয়ার্ফিজম (Dwarfism) জনিত ৭২ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা—এই সব বাধা পাশ কাটিয়ে আজ মেডিক্যাল অফিসার (Medical Officer) হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন গুজরাতের ভাবনগরের গোরখি গ্রামের গণেশ বারাইয়া (Ganesh Baraiya)। একসময় যাকে ‘তিনফুটিয়া’ বলে বুলিং করা হতো, সেই গণেশ আজ দেশজুড়ে অনুপ্রেরণার প্রতীক।

কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া গণেশের নয় ভাইবোনের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। এখনও কাঁচা বাড়িতে থাকা পরিবারকে তুলে ধরার ইচ্ছে থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। তবে সেই পথে ছিল ভয়াবহ বাধা। ২০১৮ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (MCI) তাঁকে এমবিবিএস-এ ভর্তি নিতে অস্বীকার করে—কারণ, তাঁর উচ্চতা চিকিৎসা পেশার উপযোগী নয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হয় গণেশের আইনি সংগ্রাম। হাইকোর্টে (High Court) মামলা খারিজ হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। বি.এসসি পড়ার পাশাপাশি লড়াই নিয়ে পৌঁছে যান সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। চার মাসের মধ্যে শীর্ষ আদালত জানায়—উচ্চতা কোনও বাধা নয়; গণেশকে সুযোগ দিতেই হবে। সেই সুবাদে ২০১৯ সালে তিনি ভাবনগর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন।

Advertisement
ads

কলেজে তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা ছিলেন সবচেয়ে বড় শক্তি। অ্যানাটমি ক্লাসে সামনে বসার জায়গা রাখা, সার্জারির প্রশিক্ষণে সাহায্য করা—সবেতেই তাঁরা পাশে দাঁড়ান। রোগীরা প্রথমে অবাক হলেও তাঁর লড়াইয়ের গল্প শোনার পর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন।

ডিগ্রি ও ইন্টার্নশিপ শেষ করে এখন তিনি সরকারি মেডিক্যাল অফিসার। ভবিষ্যতে শিশু বিভাগ, ত্বকবিদ্যা বা রেডিওলজি—কোনো একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। প্রথম লক্ষ্য পরিবারের জন্য একটি পাকা বাড়ি তৈরি করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গণেশের লড়াইয়ের গল্প ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভরেছে দেশ। অনেকে তাঁকে বলছেন—“জীবন্ত রোল মডেল”। গণেশের জীবনজয় আজ দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement