ভাইরাল খবর
পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের পাঠানো ৪২ ভিডিও ঘিরে দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে বড়ো চাঞ্চল্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) মামলার তদন্তে নতুন একের পর এক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। বৃহস্পতিবার চার জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা NIA। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাই (Muzammil Shakil Ganai), চিকিৎসক শাহিন শাহিদ (Shaheen Shahid), চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠের (Adil Ahmed Rather) এবং মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াঘি (Irfan Ahmed Waghi)। তাঁদের প্রত্যেককে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—মুজাম্মিলের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি সংগঠনের পাকিস্তানি এক হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ‘হানজুল্লা’ (Hanzullah) নামে পরিচিত ওই হ্যান্ডলার এনক্রিপ্টেড অ্যাপের (Encrypted App) মাধ্যমে মোট ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও তাঁর কাছে পাঠিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। গোয়েন্দাদের অনুমান, ‘হানজুল্লা’ নামটি সম্ভবত ওই হ্যান্ডলারের কোড নেম (Code Name)।
জম্মু–কাশ্মীরের শোপিয়ান (Shopian) এলাকার মৌলবী ইরফান আহমেদের মাধ্যমেই মুজাম্মিলের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, এই ‘হোয়াইট কলার’ (White Collar) জঙ্গি মডিউল কয়েক মাস ধরে দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং ফরিদাবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করে প্রায় ২০০টি আইইডি (IED) তৈরির পরিকল্পনা করছিল। দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়ির পাশাপাশি আরও দু’টি গাড়িও কেনা হয়েছিল। হ্যান্ডলারের পাঠানো ভিডিও দেখে এগুলি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে NIA।
এদিকে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University)। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল অর্থপাচার ও জঙ্গিমূলক কার্যকলাপের এক কেন্দ্রীয় ঘাঁটি। ইতিমধ্যেই সদর দপ্তর-সহ প্রায় ২৫টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা উদ্ধার করেছেন ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বিস্ফোরণ চক্রের গভীরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।


