রাজ্যের খবর
বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু, পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে চালের দাম – মধ্যবিত্তের হেঁসেলে চাপ
বাংলাদেশে চাল রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা (Ban) অগস্ট মাসেই তুলে নেয় ভারত। এর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে দাম। কলকাতার বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা।
গত ১৫ এপ্রিল ভারত সরকার বাংলাদেশে চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু ১২ অগস্ট সেই নিষেধাজ্ঞা (Restriction) তুলে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশও ভারতীয় চাল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক (Import Duty) তুলে দেয়। ঢাকা সরকার জানিয়েছিল, তাদের দেশের বাজারে অতিরিক্ত চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ। ফলত ভারত থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টন চাল গিয়েছে বাংলাদেশে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে।
কমোডিটি অ্যানালিস্ট সুরজ আগরওয়াল (Commodity Analyst) জানান, “বাংলাদেশ সরকার ৪.৬ লক্ষ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৯ হাজার টন ধান বেসরকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে শুল্কহীনভাবে আমদানি করেছে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়েছে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে।”
রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তাদের আগেই খবর ছিল যে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তাই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে অনেক চাল আগে থেকেই মজুত রাখা হয়েছিল। সরকারি ঘোষণা হতেই সেই চালবোঝাই লরি বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও চিন্তা বেড়েছে মধ্যবিত্তের ঘরে।
কারণ, চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
-
স্বর্ণ চাল (Swarna Rice): আগে ৩৪ টাকা, এখন ৩৯ টাকা।
-
মিনিকেট (Miniket Rice): আগে ৪৯ টাকা, এখন ৫৫-৫৬ টাকা।
-
রত্না চাল (Ratna Rice): আগে ৩৬-৩৭ টাকা, এখন ৪১-৪২ টাকা।
হঠাৎ করে দাম কেজি প্রতি প্রায় ৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বাঙালি মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, এখন অনেকেই কম দামের চালের খোঁজ করছেন। কেউ কেউ মিনিকেট ছেড়ে সস্তার বিকল্প চাল কিনতে চাইছেন। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, রপ্তানি যদি চলতে থাকে তবে আগামী দিনে আরও দাম বাড়তে পারে।


