অবসান হল এক সংগ্রামের, প্রয়াত প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক কর্মী আজিজুল হক
Connect with us

রাজনীতি

অবসান হল এক সংগ্রামের, প্রয়াত প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক কর্মী আজিজুল হক

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ শেষ হয়ে গেল এক সংগ্রামী অধ্যায়। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা আর অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, বক্তা ও বামপন্থী চিন্তক আজিজুল হক (Azizul Haque)। মঙ্গলবার দুপুর ২:২৮-এ সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ভেন্টিলেশনে ছিলেন, শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, বহু শারীরিক সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছিল। বাড়িতে পড়ে গিয়ে হাত ভাঙার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছিল।

নকশালবাড়ি আন্দোলনের সময় ভারতের বামপন্থী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন আজিজুল হক। চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর সিপিআই (এম-এল)-এর দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেন। তাঁর লেখা “কারাগারে ১৮ বছর” বইটি নকশাল আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দীর্ঘ কারাবাসের অভিজ্ঞতা, শারীরিক নির্যাতন, রাজনৈতিক বন্দিদের দুঃসহ অবস্থা—সবই এই বইয়ের পাতায় উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ “বাংলা বলায় জেল? লড়াই হবে দিল্লিতেও”: ২১ জুলাইয়ে হুঁশিয়ারি মমতার

১৯৭৭ সালে মুক্তি পেলেও ১৯৮২ সালে ফের গ্রেফতার হন হক। জেলের মধ্যেই নিগ্রহের শিকার হন। সেই সময় রাজ্যের দুই মন্ত্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও যতীন চক্রবর্তী জেলে গিয়ে তাঁর মুক্তির পক্ষে কথা বলেন। কংগ্রেস নেতা সুব্রত মুখার্জিও তাঁর উপর চালানো নিপীড়নের সাক্ষী ছিলেন বলে জানা যায়। যদিও তিনি বহু আগেই সরাসরি রাজনীতি ছেড়ে দেন, কলকাতায় গড়ে তোলেন ‘ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি’। লিখতেন ‘সংবাদ প্রতিদিন’ ও ‘আজকাল’-এ।

Advertisement
ads

তাঁর মৃত্যু কেবল একজন চিন্তকের প্রস্থান নয়, বরং এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি। প্রতিরোধ, আদর্শ ও লেখনীর শক্তিতে যিনি নিজেই ছিলেন জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর সৃষ্টি আজও পথ দেখাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

Continue Reading
Advertisement