অপারেশন সিঁদুর
“ধর্মান্ধ শুভেন্দুকে কাশ্মীরে আসার আমন্ত্রণ” — পাল্টা বার্তা জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির
ডিজিটাল ডেস্ক: কাশ্মীরে ভ্রমণ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজনীতি তুঙ্গে। তাঁর ‘ধর্মনির্ভর পর্যটন’ মন্তব্যের বিরোধিতা করল তৃণমূল কংগ্রেস, কাশ্মীরের শাসকদল National Conference, এমনকি নিজের দলের শরিক জম্মু ও কাশ্মীর বিজেপিও। দেশভক্ত কাশ্মীরিদের অপমান করা হয়েছে বলেই দাবি তাঁদের।
পাহেলগাঁও হামলার পর এক জনসভায় শুভেন্দু বলেন, “হিন্দু বাঙালিদের উচিত জম্মু যাওয়া, কাশ্মীর নয়। যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে না যাওয়াই ভালো।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। কাশ্মীর বিজেপির নেতা এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি Ravinder Raina পাল্টা বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ বহু দশক ধরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়েছে, শহিদ হয়েছেন হাজার হাজার কাশ্মীরি যুবক। কাশ্মীরের মাটিতে আজও ভারতীয় সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশরক্ষা করছে এখানকার মানুষ।”
আরও পড়ুনঃ ভোররাতে রাস্তায় পড়ে রইল তৃণমূল নেতা, খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
রায়না আরও বলেন, “পর্যটকদের আশ্রয় দিয়ে কাশ্মীরিরা প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কতটা দেশভক্ত। তাই শুভেন্দু অধিকারীর উচিত এখানে এসে নিজেদের চোখে কাশ্মীরের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম দেখা।” এরপরই তিনি বাংলার নাগরিকদের কাশ্মীরে এসে ঘুরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। দলের মুখপাত্র বলেন, “এই মন্তব্য প্রমাণ করে বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি থেকে একচুলও সরে আসেনি।”
তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া আসে National Conference-এর মুখপাত্র এবং বিধায়ক Tanvir Sadiq-এর তরফে। তিনি এক্স-এ লেখেন, “This is shameful. When the nation stands with Kashmir, Bengal’s opposition leader is trying to divide and polarize. This is not nationalism.”
এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তাঁর কথায় দলই ফেঁসে গেল কিনা, উঠছে সে প্রশ্নও।
