শনিবার দলীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, এই মন্তব্যগুলি একান্তই কল্যাণ ও মদনের ব্যক্তিগত মত। এক্স হ্যান্ডেলে (X Handle) পোস্ট করে দল স্পষ্ট জানায়— “এই ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই। দল এই মন্তব্যগুলির তীব্র নিন্দা করছে এবং এগুলিকে সমর্থন করে না।” সেই সঙ্গে দল জানিয়ে দেয়, “মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে তৃণমূলের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—শূন্য সহনশীলতা। এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছে দল।”
আরও পড়ুনঃ “গণতন্ত্র নেই রাজ্যে”— জামিনে সই নয়, লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে লালবাজার থেকে মুক্ত সুকান্ত মজুমদার
প্রসঙ্গত, কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের (South Calcutta Law College) গার্ডরুমে এক ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) নামে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণী নিজেও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মী। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মনোজিৎ-সহ আরও দুই ছাত্র জইব আহমেদ (Joib Ahmed) ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় (Pramit Mukherjee) এবং এক নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ খুলতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান মদন মিত্র। তাঁর মন্তব্য, “মেয়েটি বন্ধুদের সঙ্গে গেলে এই ঘটনা হয়তো ঘটত না।” অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে প্রশ্ন তোলেন, “বন্ধু যদি বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, সেখানে নিরাপত্তা কী করবে?” যদিও পরে তিনি সুর বদলে বলেন, “আইন না থাকলে ওদের গুলি করে মারা উচিত। যারা এই জঘন্য অপরাধে যুক্ত, তাদের দল থেকে তাড়ানো উচিত।”
দল যখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে ব্যস্ত, তখন দুই নেতার এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে। তবে দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূল কার্যত এই মন্তব্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছে।