বাংলাদেশ
‘হিন্দু বলেই কি বিচার মিলছে না?’—বাংলাদেশে ধর্ষিতা গৃহবধূর পরিবারের প্রশ্ন, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার ফের একবার সামনে এল। এবার ধর্ষণের শিকার হলেন এক হিন্দু গৃহবধূ—এবং অভিযুক্ত আর কেউ নন, খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) নেতৃত্বাধীন বিএনপির এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা। সবচেয়ে লজ্জাজনক ও আশঙ্কাজনক বিষয়, অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সেই নেতার বিরুদ্ধে কোনও দৃশ্যমান পুলিশি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টে আক্রান্ত পরিবারের উপর চলছে চাপ ও হুমকি, যাতে তাঁরা মামলা তুলে নেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে। অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজর আলি (Fozor Ali) জোর করে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে ছুরির মুখে ধর্ষণ করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও, ফজর কোনওভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের আইনি প্রশাসনের বেহাল দশা ফের প্রমাণ করছে।
আরও পড়ুনঃ “মহিলা নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও ছাড় নয়”—কল্যাণ-মদনের মন্তব্যে বিরক্ত তৃণমূল, জানাল ‘এগুলি ব্যক্তিগত’
নির্যাতিতার কাকিমা সরস্বতী বর্মণ (Saraswati Barman) সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুজো চলাকালীন হঠাৎ ভাইঝির চিৎকার শুনে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে ছুটে আসেন এবং আক্রান্তকে উদ্ধার করেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের মামলা করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক চাপে নিষ্ক্রিয়। বরং বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে মামলা তুলে নেওয়া হয়।
চরম নিন্দনীয়ভাবে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভি (Ruhul Kabir Rizvi) ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নীরবতা এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।
ভারত থেকেও উদ্বেগ বাড়ছে—কারণ একদিকে বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ মুখোশ পরে থাকলেও, বাস্তবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার ও হিন্দু নারীদের উপর যৌন হিংসা যেন প্রায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের সরকার ( Government) কি আদৌ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আন্তরিক? নাকি বিএনপির মতো মৌলবাদপন্থীদের রাজনৈতিক তোষণেই ব্যস্ত পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র?
এই ঘটনায় দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না হলে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব আরও বিপন্ন হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কা।
