ভোটের খবর
মতুয়া ভোট: ২০২৬-র লড়াই শুরু আগেভাগেই, মাঠে নেমেছে মহাসঙ্ঘ, কড়া অবস্থানে বিজেপি-তৃণমূল
পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে ‘মতুয়া ভোট’ বরাবরই এক গুরত্বপূর্ণ ব্যালান্সিং ফ্যাক্টর। সেই ভারসাম্য এখন বিরল টানাপড়েনের মধ্যে। কারণ ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক দখলের লড়াইয়ে নেমেছে রাজ্যের প্রধান দুই শক্তি— তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ।
মতুয়া সমাজের জনসংখ্যা ২.৫ থেকে ৩ কোটির মধ্যে। তাদের ভোটার সংখ্যা ১.৮ কোটির কাছাকাছি। রাজ্যের প্রায় ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়ারা ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার মধ্যে ২১টি আসনে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে মতুয়া অধ্যুষিত বেশিরভাগ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল-কংগ্রেস জোট। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ধীরে ধীরে মতুয়া ভোট বিজেপির দিকে সরে যেতে শুরু করে। বনগাঁ, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর ও ব্যারাকপুরে মতুয়া প্রভাব সবচেয়ে প্রবল। ঠাকুরবাড়ির একাধিক সদস্যের বিজেপি ঘনিষ্ঠতা এবং শান্তনু ঠাকুরের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।
তৃণমূল অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়া সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধিত্ব টিকিয়ে রাখতে মমতাবালা ঠাকুরকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন, কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুরকে বাগদায় টিকিট দিয়েছেন, এবং ‘মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড’ গড়ে তার মাথায় বসিয়েছেন মমতাবালাকেই।
অন্যদিকে বিজেপির প্রত্যক্ষ মদতেই ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’ কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, মতুয়া ভোটারদের নাম পরিকল্পনা করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মতুয়াদের সিএএ সমর্থন, হিন্দু মূল্যবোধে অনুগত্য এবং রাজ্যের দুর্নীতির প্রতিবাদ করার প্রেক্ষাপট।
১ জুন নেতাজি ইনডোরে এক সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আমায় জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে হিন্দুদের নাম কাটা হচ্ছে। আমি তাঁকে বলেছি, ভয় পাবেন না, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”
ফলে স্পষ্ট যে, বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের মাস আটেক আগেই মতুয়া ভোটকে ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে ভোট-যুদ্ধ তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের আগামী ভোটে মতুয়া ভোট হতে পারে অন্যতম নিয়ামক শক্তি।
