করোনাভাইরাস
করোনায় দেশের তৃতীয় স্থানে বাংলা, রাজ্যের তথ্য গোপন? উঠছে প্রশ্ন
ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে ফের বাড়ছে করোনা (Covid-19) সংক্রমণ। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, দৈনিক সংক্রমণের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে কেরালা (Kerala), মহারাষ্ট্র (Maharashtra), দিল্লি (Delhi), গুজরাট (Gujarat) এবং পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Health Ministry) কেন্দ্রীয় কোভিড ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কেরালা ও মহারাষ্ট্রের পরই বাংলার স্থান। তবে সমস্যা হচ্ছে, গত দু’দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও করোনা সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রকে পাঠানো হয়নি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কোভিড পোর্টালে স্পষ্ট লেখা রয়েছে — West Bengal: Covid-19 Data Awaited। অর্থাৎ বাংলার তথ্য এখনও আসেনি।
এই পরিস্থিতি ঘিরে বিরোধীরা (Opposition) অভিযোগ তুলেছে, ডেঙ্গির মতো করোনা নিয়েও তথ্য গোপন করছে রাজ্য সরকার। যদিও শুধু বাংলা নয়, অরুণাচল (Arunachal Pradesh), হিমাচল (Himachal Pradesh), জম্মু-কাশ্মীর (Jammu & Kashmir), মণিপুর (Manipur), মিজোরাম (Mizoram)-এর ক্ষেত্রেও তথ্য আপডেট নেই বলে কেন্দ্রের পোর্টালে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় কোভিড পরিসংখ্যান বলছে, একদিনে দেশে ৩০৬ জনের করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। দেশে বর্তমানে মোট অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৭,১২১। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ছ’জনের। যার মধ্যে কেরালায় (Kerala) তিন জন, কর্নাটকে (Karnataka) দু’জন এবং মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশু, মধ্যবয়সী ও প্রবীণরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকেই বহুদিন ধরে বিভিন্ন কোমর্বিডিটির (Comorbidities) শিকার ছিলেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে কেরালা দেশের মধ্যে শীর্ষে। বাংলার স্থান এখনও দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কর্নাটকেরও পরে। তবে রাজ্যে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এক জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। যদিও রাজ্যে আরও দু’টি মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।
এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম (Narayan Swaroop Nigam) কোনও মন্তব্য করেননি। তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) বলেন, “কোভিড নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা চলছে। দু’দিন তথ্য পাঠানো হয়নি, আবার পাঠানো হবে। এতে এত হইচই করার কী আছে? স্বাস্থ্য তো রাজ্যের তালিকাভুক্ত বিষয়। সব কিছু কেন্দ্রকে জানাতে হবে, এমন নয়।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, “তথ্য সংকলনে কিছু সমস্যার জন্যই আপাতত কেন্দ্রকে ডেটা পাঠানো যায়নি। মূল সমস্যা বেসরকারি হাসপাতাল (Private Hospital) এবং ল্যাবরেটরি (Laboratory) থেকে তথ্য আসা নিয়ে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও কেন্দ্র-রাজ্যের তথ্য আদানপ্রদানে গরম হচ্ছে রাজনীতি। করোনা নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
