মঙ্গলবার এক্স (X)-এ একটি পোস্টে মোদি লেখেন, “গত ১১ বছরে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য—আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন। ভারতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য দেশের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার সাফল্য তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ১,৯৪০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩,৬২২ কোটি টাকায়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষাও মোদি সরকারের সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও ভারতের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবদানও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, রাষ্ট্রসংঘের (UN) অধীনে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নিয়েছে ভারতের প্রায় ২.৯ লক্ষ সেনা। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, করোনা (Covid) পরিস্থিতিতে ভারতের তৈরি টিকা বিশ্বের বহু দেশকে পাঠানো হয়েছিল, সেটাও এনডিএ সরকারের ‘সফলতা’ হিসেবেই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সরকারের ‘বিকাশ যাত্রা’ বা ‘উন্নয়নের পথচলা’র আরও অনেক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন মোদি। লেখেন, “উজ্জ্বলা (Ujjwala) হোক বা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY), আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) হোক বা জনৌষধী প্রকল্প, অথবা পিএম কিষাণ সম্মান নিধি—আমাদের লক্ষ্য সবসময় দেশের দরিদ্র মানুষদের জীবনের মানোন্নয়ন করা।”
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) মোদি সরকারের এগারো বছরের শাসনকালকে ‘ব্যর্থতা এবং হতাশার যুগ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। ডেরেকের বক্তব্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তাহারে যে ১৫টি প্রতিশ্রুতি ছিল, তার বেশিরভাগই এখনও পূরণ হয়নি। বরং এই শাসনকালে গরিব মানুষ আরও বিপদে পড়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।