গোপনীয়তার সঙ্গে ধৃত শুভঙ্করকে সোমবার তমলুক আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতের স্ত্রী দাবি করেছেন, “আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার। কেউ ইচ্ছে করে ওকে ফাঁসিয়েছে।”
ঘটনার তদন্তে চার জন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, মৃত বালকের লেখা নোট এবং তাঁর খাতার অন্য লেখার মিল খুঁজতে পাঠানো হচ্ছে কোশ্চেন ডকুমেন্ট এক্সামিনেশন ব্যুরো (QDEB)-তে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও নাবালকের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া আগাছানাশক বিষের বোতল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হলো বাড়ি বাড়ি স্মার্ট মিটার লাগানো। নোটিস জারি করল বিদ্যুৎ দফতর
প্রসঙ্গত, গত মাসে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এক নাবালককে ‘চিপস চুরি’র অপবাদে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এমনকি, তাঁর মা-ও প্রকাশ্যে ছেলেকে মারধর করেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয় সে। ঘর থেকে পাওয়া যায়, ‘আমি চুরি করিনি মা’— এমনই মর্মান্তিক চিঠি। তদন্তে উঠে আসে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে বালকটি দোকান থেকে চিপস চুরি করেনি। সে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা প্যাকেট কুড়িয়ে নিয়েছিল মাত্র।
ঘটনা নিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী রানু রানা (Ranu Rana) বলেন, “ছেলেটা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। চুরি না করেও অপবাদ পেয়ে ঘাবড়ে গিয়েছিল। সাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে যায়। তখন সে কান ধরে উঠবস করে নিজের ভুল স্বীকার করেছিল।”
অন্য প্রত্যক্ষদর্শী সদানন্দ রানা (Sadananda Rana) জানান, “মাত্র কয়েকটি চিপসের প্যাকেটের জন্য ওইভাবে বালকের পেছনে ধাওয়া করা উচিত হয়নি। সেখান থেকেই সব গন্ডগোলের শুরু।”
পাঁশকুড়া থানার আইসি সমর দে (Samar De) বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে আগেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। এখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলছে।”
তবে এখনও এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত শ্যামপদ ভূঁইয়া (Shyampada Bhuniya) পলাতক। তাঁকে ধরতে জোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে মৃত বালকের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা।