আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে রাজ্যে একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে দাবদাহ
Connect with us

আবহাওয়া

আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে রাজ্যে একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে দাবদাহ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ একটানা দাবদাহের পরে মঙ্গলবার রাতের স্বস্তির বৃষ্টি যেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে কিছুটা জোর দিল। ঘন্টাখানেকের সেই মুষলধারে বৃষ্টি তীব্র গরমে নাজেহাল কলকাতা-সহ আশেপাশের জেলাগুলিকে কিছুটা শীতলতা দিলেও, আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে—এটা বর্ষার আগমন নয়। এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢোকার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সম্ভাব্য তারিখ ১০ জুনের পরে।

আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে পূর্ব বিহারের উপরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত, যা বর্তমানে উত্তর বাংলাদেশের আকাশে অবস্থান করছে। তার জেরেই বাংলার আকাশে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প, যা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফের ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সঙ্গে থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। শুক্রবার এই পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়বে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, ও দুই মেদিনীপুর জেলায়। টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

তবে একদিকে বৃষ্টি যেমন কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শুষ্ক পশ্চিমী বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ফের তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস মিলছে। সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ফলে বৃষ্টি ও গরমের চাপে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে চলেছে।

Advertisement
ads

উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরে বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবারও এই জেলাগুলিতে একই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর ও উত্তর দিনাজপুরে ফের গরম পড়বে, যা ঘামে অস্বস্তি বাড়াবে সাধারণ মানুষের।

কলকাতার আবহাওয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বুধবার সর্বোচ্চ ছিল ৩২.২ ডিগ্রি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৬৭ শতাংশ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

অর্থাৎ, রাজ্যবাসীকে আগামী ক’দিন থাকতে হবে একদিকে বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে, আর অন্যদিকে অস্বস্তিকর গরমের সঙ্গেও মানিয়ে চলতে হবে। বর্ষা ঢুকতে এখনও দেরি থাকলেও, প্রকৃতির এই পালা বদলের মধ্যে দিয়ে চলতে হবে আর কিছুদিন।

Advertisement
ads