শিক্ষা
দেড় ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম! মুখ্যমন্ত্রীর দেখা না মিললে আরও ভয়ঙ্কর হবে SSC আন্দোলন
ডিজিটাল ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার আরও তীব্র হল এসএসসি ২০১৬ প্যানেলের চাকরিচ্যুত যোগ্য শিক্ষকদের (SSC Eligible Jobless Teachers) আন্দোলন। বিকাশ ভবনের সামনে টানা ৯ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পর এদিন আচমকাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)–কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন প্রতিবাদকারীরা। দুপুর ১টা ১৫ নাগাদ আন্দোলনকারী শিক্ষকরা ঘোষণা করেন, “দেড় ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী অথবা তাঁর কোনও প্রতিনিধি এখানে এসে আমাদের দাবি পূরণ না করলে, এই আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নেবে।”
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দাবি, অবিলম্বে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং আর্থিক লেনদেন করে চাকরি পাওয়া অযোগ্যদের শনাক্ত করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। এই দাবির ভিত্তিতেই আন্দোলনে নামা ‘যোগ্য শিক্ষক অধিকার মঞ্চ’-র সদস্যদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার সময়ক্ষেপণ করছে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এদিনের অভিযানে প্রশাসনের অপ্রস্তুত অবস্থাও স্পষ্ট হয়ে পড়ে। আচমকা উত্তেজনা বাড়তেই তড়িঘড়ি বিকাশ ভবনের মূল ফটকে লোহার দরজা বন্ধ করে ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। ততক্ষণে বাইরে জমায়েত হয়েছেন হাজারেরও বেশি চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষিকা, যাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড— “চোরেদের শাস্তি চাই, আমাদের চাকরি ফেরত চাই।”
আরও পড়ুনঃ বিকাশ ভবনে SSC যোগ্য শিক্ষক অধিকার মঞ্চের অভিযান: গেট ভেঙে ঢুকে বিক্ষোভ
এই বিক্ষোভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রথমে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং তারপরে মূল গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১২টা থেকে গোটা বিকাশ ভবন চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
প্রসঙ্গত, এসএসসি ২০১৬-র (SSC 2016) নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক ভাতার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রুপ সি কর্মীরা প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ও গ্রুপ ডি কর্মীরা ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
তবে আন্দোলনকারীদের একাংশের প্রশ্ন— “রাজ্য সরকার যোগ্যদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ না করে কেন ভাতা দেওয়ার পথে হাঁটছে? এতে তো প্রকৃত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”
চূড়ান্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ে আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীকে সময়সীমা বেঁধে বলেন, “এই রাজ্যের প্রশাসনের শীর্ষে যিনি, তাঁকেই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। না হলে এই আন্দোলনের রূপ আন্দাজ করতে পারবেন না কেউ।”
