ডিজিটাল ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারিগর হওয়ার দাবি করেছেন। তার দাবি, তিনি দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ (Nuclear War) আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে, এই দাবি নিয়ে ভারতের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারত কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না, এবং মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রক (Ministry of External Affairs)ও একই বার্তা দিয়েছে।
সৌদি আরব সফরে (Saudi Arabia visit) গিয়ে ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে বলেন, “সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে ডিনার করতে হবে। পরমাণু যুদ্ধের কথা যেন দুই দেশই ভাবতে না পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার।” ট্রাম্পের মতে, সেই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হতে পারত। তাঁর পরামর্শ, যদি ভারত এবং পাকিস্তান একসঙ্গে বসে ভালো ডিনার করে, তবে হয়তো সম্পর্কের পরিবেশ কিছুটা হালকা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ পূর্ণমের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, নিজে ফোন করে খোঁজ নিলেন রজনী সাউয়ের
ট্রাম্পের এই মন্তব্য অনেকেই কার্যকর মনে করেনি, বিশেষ করে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu-Kashmir) সমস্যা একটি দ্বিপাক্ষিক (Bilateral) বিষয় এবং তৃতীয় পক্ষের (Third Party) কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ ভারতের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, বাণিজ্যিক (Trade) বিষয়ে আলোচনা করে তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করিয়েছেন, তবে ভারত এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়েশওয়াল (Randeep Jayeshwal) জানিয়েছেন, ভারত শুধুমাত্র পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে, কিন্তু তা তাদের শর্তে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস (White House) জানিয়েছে, তারা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তির (Ceasefire Agreement) স্বাগত জানাচ্ছে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পরেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে ভারত সরকার দাবি করেছে যে, পাকিস্তান ভারতের শক্তি দেখে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প সৌদি আরবে (Saudi Arabia) এক ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক চুক্তি ঘোষণা করেছেন, যার মূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলার। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে (USA) ব্যাপক বিনিয়োগ করবে, যা প্রযুক্তি (AI), প্রতিরক্ষা (Defense), জ্বালানি (Energy), এবং স্বাস্থ্য (Health) খাতে হবে। ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (America First) নীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।