পাক-ভারত উত্তেজনার মাঝে অসুস্থ কিশোরের আবেদন: ‘আমার মাকে ফিরিয়ে দিন’
Connect with us

হামলা

পাক-ভারত উত্তেজনার মাঝে অসুস্থ কিশোরের আবেদন: ‘আমার মাকে ফিরিয়ে দিন’

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগামের রক্তাক্ত ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব যখন নতুন মাত্রা নিচ্ছে, ঠিক তখনই মানবিকতার এক করুণ চিত্র উঠে এল করাচির এক প্রতিবন্ধী কিশোরের চিঠিতে। সীমান্তের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে হৃদয়বিদারক চিঠি লিখেছে ১৫ বছরের আয়ান, যে বর্তমানে বাবার সঙ্গে করাচিতে ফিরেছে, কিন্তু মা ও মাসিকে ফেলে যেতে হয়েছে ভারতে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। করাচিতে পুলিশের হাতে মার খেয়ে আয়ান মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং পঙ্গু হয়ে পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে যান তার বাবা-মা। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন ঘটে যায় পহেলগামের হামলা। তার পরই পাক নাগরিকদের দ্রুত ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আয়ানের বাবার পাকিস্তানি পাসপোর্ট থাকায় তিনি ফিরতে পারলেও, মা এবং মাসি—যাঁরা এখনও ভারতীয় নাগরিকত্ব বহন করেন—তাঁদের পাকিস্তানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ পহেলগাঁও হামলার ছায়া বাংলায়? বসিরহাটে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র, ধৃত দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী

রবিবার লাহোর হয়ে করাচির বাড়িতে ফিরে আয়ান যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়, তখন চোখেমুখে শুধুই ক্লান্তি আর হতাশা। “আমি শুধু আমার মাকে চাই,”—কাঁপা কণ্ঠে বলেছে সে। তার বাবার দাবি, বিয়ের পর স্ত্রী পাকিস্তানে থাকলেও নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। এই জটিলতা আজ তাঁদের পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

Advertisement
ads

ভারতীয় দিক থেকে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেও আয়ানের সমস্যার সমাধান করা কঠিন। কারণ, পাকিস্তানও ভারতীয়দের দেশ ছাড়তে বলেছে। ইতিমধ্যে এক হাজারের কাছাকাছি ভারতীয় দেশে ফিরে এসেছেন। আয়ানের মা দেশে ফিরতে চাইলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ছাড় দিলেও পাকিস্তানি কর্তৃরক্ষ তাকে প্রবেশাধিকার দেবে কি না সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তিনি পাকিস্তানের বধূ হলেও আইনত ভারতীয় নাগরিক। একমাত্র মানবিক কারণে দুই দেশ বিশেষ সিদ্ধান্ত নিলে তবেই মা’কে ফিরে পেতে পারে আয়ান।

সীমান্ত রাজনীতির এই টানাপোড়েনে আটকে পড়েছে একটি পরিবারের একাত্মতা। আয়ানের লেখা চিঠির মাধ্যমে এখন আর্জি উঠেছে—দুই দেশের সরকারের কাছে, অন্তত এই একবার মানবিকতার জয় হোক।

Continue Reading
Advertisement