ধুলিয়ানে রাজ্যপাল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পৌঁছে আশ্বাস— তৎপরতায় রাজনৈতিক চাপানউতোর
Connect with us

রাজ্যের খবর

ধুলিয়ানে রাজ্যপাল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পৌঁছে আশ্বাস— তৎপরতায় রাজনৈতিক চাপানউতোর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মালদহ সফর সেরে শুক্রবার রাতেই মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার সকালে তিনি ধুলিয়ান ও শমসেরগঞ্জের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। এরই মধ্যে ধুলিয়ান পুরসভার জাফরাবাদে খুন হওয়া পিতা-পুত্রের বাড়িতেও পৌঁছে যান রাজ্যপাল। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, আশ্বাস দেন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও সহযোগিতার।

রাজ্যপালের এই সফরের আগে থেকেই জোর তৎপরতা শুরু করে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেল থেকেই ত্রাণসামগ্রী বিলি শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে। বিতরণ করা হয় সিলিং ফ্যান, টিউব লাইট, সুইচ বোর্ড, বিছানাপত্র-সহ একাধিক জরুরি সামগ্রী। প্রশাসনের এই তৎপরতা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যপালের সফরের কথা জানার পরেই ‘চাপে পড়ে’ নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। মুর্শিদাবাদের জেলা বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “রাজ্যপালের নজর এড়াতেই এত তড়িঘড়ি পরিষেবা দেওয়ার নাটক। পাঁচ দিন ধরে আলো-পাখা ছাড়া ঘরছাড়া মানুষকে ফিরিয়ে আনা হল শুধু দেখনদারির জন্য।”

আরও পড়ুনঃ ভাঙড়ে ফের অশান্তি, চক মরিচায় তৃণমূল কার্যালয়ে আগুন, অভিযোগ আইএসএফের দিকে

এই অভিযোগ খণ্ডন করে পালটা সুরে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতোই প্রশাসন কাজ করছে। তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, “রাজ্যপাল আসছেন বলেই আমরা কাজ করছি— এমন ভাবনা হাস্যকর। হিংসার সময় সাধারণ মানুষকে পাশে পেয়েছে একমাত্র তৃণমূলই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা নয় এটা।” জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আড়াইশোর বেশি বাড়ি এবং শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধুলিয়ান পুরসভা ও শমসেরগঞ্জ ব্লকে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি হয়েছে। আপৎকালীনভাবে ত্রাণ বিলি শুরু হয়েছে। দ্রুত পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাধারণ জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য।”

Advertisement
ads

এদিকে, ধুলিয়ানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছে গেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যেরাও। কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে গিয়ে কয়েকজন মহিলা পা জড়িয়ে ধরে তাঁদের আকুতি জানান, গ্রামে স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প গড়ার। স্থানীয়দের বক্তব্য, “অস্থায়ী শান্তি নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা চাই।”

রাজ্যপালের সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ। হিংসার ছায়া থেকে জনজীবন কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা জেলা।

Continue Reading
Advertisement