ডিজিটাল ডেস্কঃ ৪ এপ্রিল বারাণসীতে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, এই ঘটনাটি নিছক একটি গণধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে একটি বৃহৎ যৌনচক্র। সেই যৌনচক্রটি বারাণসীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু সহ একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত রয়েছে।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তবে এখনও ১০ অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তের ফোন থেকে ৫৪৬ জন মহিলার অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করা হত। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মূল অভিযুক্ত একটি ক্যাফে পরিচালনা করতেন, যার আড়ালে মাদক এবং নারী পাচার চক্র চালাতেন। অভিযুক্ত তরুণী এবং যুবতীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করতেন এবং সেইসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলে বিক্রি করতেন।
আরও পড়ুনঃ বারাণসী গণধর্ষণ মামলা: প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষে ডিসিপি বদলি, তদন্তে মিলল ভয়াবহ তথ্য
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত মীরপুর ভাসির বাসিন্দা এবং ২০১৮ সাল থেকে বারাণসীর সিগরা এলাকায় ফাস্ট ফুডের দোকান চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সোনিয়া পোখারে একটি ক্যাফে খুলে যৌনচক্রের কার্যকলাপ শুরু করেন। ২০১৮ সালেও এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বাবা ও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে হাই কোর্টে জামিন পাওয়ার পর তারা মুক্তি পায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১০ এপ্রিল বারাণসী সফরে গিয়ে এই ঘটনার ব্যাপারে পুলিশকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর সফরের পর তদন্তে আরও গতি এসেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১১ অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এবং বারাণসী শহরের পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তদন্তকারী দল ফরেন্সিক ল্যাবের সাহায্যে ধৃতদের ফোনের তথ্য যাচাই করছে, এবং আরও অভিযুক্তদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।